সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, খাতা মূল্যায়নে ব্যর্থ পরীক্ষকদের ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ ছিল না। শুধু টেবুলেশন শিটে নম্বর যোগের বিষয়টি যাচাই করা হতো। এবার ১৯৮০ সালের সংশ্লিষ্ট আইনে আইনগতভাবে খাতা পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, এবার প্রায় চার লাখ পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে তত্ত্বীয় স্ক্রিপ্টের জন্য আবেদন ছিল ১০ লাখ ৫৬ হাজার এবং ব্যবহারিক স্ক্রিপ্টের জন্য ২ লাখ ৩১ হাজার। সব মিলিয়ে স্ক্রিপ্টের আবেদন ছিল ১২ লাখ ৮৭ হাজার।
বদলে গেছে ফলপুনর্মূল্যায়নের ফল তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২৭ হাজার ৮৩৬ জন পরীক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের। আর ফেল থেকে পাস করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন।
এ ছাড়া পুনর্মূল্যায়নের পর ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন বলে জানান তিনি। এতদিন পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী তাদের প্রাপ্য ফল থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও ফলসংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই খাতা পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ব্যর্থ পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণখাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, ত্রুটিপূর্ণভাবে মূল্যায়িত খাতাগুলো আলাদা করা হয়েছে। এসব খাতা পর্যালোচনার জন্য আরেকটি কমিটি করা হবে। কমিটি সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের মূল্যায়নের দুর্বলতা চিহ্নিত করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, যারা মূল্যায়নে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা পরবর্তী সময়ে জানানো হবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক