স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিই হতে পারে স্বাস্থ্যখাত পুনর্গঠনের ভিত্তি

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০১ বিকাল
  • ৩০৮০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
একজন রোগী হাসপাতালে আসেন চিকিৎসা ও নিরাপত্তার প্রত্যাশা নিয়ে। সময়মতো চিকিৎসক পাওয়া, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধের প্রাপ্যতা এবং চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ছে কি না—এসব বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপরই নির্ভর করে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সাফল্য। ফলে স্বাস্থ্যখাতের যেকোনো সংস্কারের কেন্দ্রে থাকতে হবে রোগীর প্রয়োজন ও অধিকার।

স্বাস্থ্যসেবার জন্য বরাদ্দ অর্থের অপচয় বা আত্মসাতের প্রভাব সরাসরি রোগীর ওপর পড়ে। অনিয়মের কারণে ওষুধ সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা, জরুরি যন্ত্র মেরামতে দীর্ঘসূত্রতা কিংবা প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগে বিলম্ব—সবই চিকিৎসাসেবাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি প্রতিরোধকে শুধু আর্থিক অনিয়ম দমন হিসেবে নয়, রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসাপ্রাপ্তি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষার অংশ হিসেবে দেখতে হবে।

অনিয়ম শনাক্তে ঝুঁকিভিত্তিক পর্যালোচনা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও এর অধীন অধিদপ্তর, হাসপাতাল, প্রতিষ্ঠান এবং প্রকল্পগুলোর ঝুঁকিভিত্তিক পর্যালোচনা দিয়ে কাজ শুরু করা যেতে পারে। বড় অঙ্কের ক্রয়, বারবার ব্যয় বৃদ্ধি, অসমাপ্ত নির্মাণ, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, অস্বাভাবিক সরবরাহ বিল, নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগ এবং একই প্রতিষ্ঠানের বারবার কাজ পাওয়ার মতো বিষয়গুলোকে তদন্তের সম্ভাব্য সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে এসব বিষয়কে প্রমাণ ছাড়া অপরাধের সিদ্ধান্ত হিসেবে নেওয়া যাবে না।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত বাজেট, প্রকৃত ব্যয়, জনবল, ওষুধের মজুদ, যন্ত্রপাতির অবস্থা, চলমান প্রকল্প ও চুক্তির হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। কাগজপত্রের হিসাবের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিলও যাচাই জরুরি। সরবরাহ দেখানো পণ্য সত্যিই হাসপাতালে পৌঁছেছে কি না, নির্মাণকাজ নির্ধারিত মানে হয়েছে কি না এবং কেনা যন্ত্র রোগীর সেবায় ব্যবহার হচ্ছে কি না—এসব সরেজমিনে পরীক্ষা করতে হবে।

অভিযোগের ক্ষেত্রে নথি, ডিজিটাল রেকর্ড, বিল, গ্রহণপত্র ও সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। তদন্তে স্বার্থের সংঘাত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা প্রয়োজন। প্রশাসনিক ত্রুটি, অবহেলা, আর্থিক অনিয়ম ও অপরাধের মধ্যে পার্থক্য করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নিতে হবে। অপরাধের প্রমাণ মিললে বিভাগীয় ব্যবস্থা, অর্থ পুনরুদ্ধার, চুক্তিগত প্রতিকার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফৌজদারি কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

নিয়োগ ও বদলিতে স্বচ্ছতা

স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র নিয়োগ, পদায়ন ও বদলি। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত পদ, শূন্যপদ এবং বাস্তব প্রয়োজনের তালিকা প্রকাশ করা প্রয়োজন। নিয়োগের যোগ্যতা, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও ফল নির্ধারণের মানদণ্ড আগেই জানাতে হবে। পরীক্ষার গোপনীয়তা, মূল্যায়নের নিরপেক্ষতা এবং অভিযোগ পর্যালোচনার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে রোগীর চাপ, এলাকার প্রয়োজন, চাকরির মেয়াদ, বিশেষ দক্ষতা এবং যুক্তিযুক্ত ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ভিত্তিতে নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। নিয়মের ব্যতিক্রম হলে তার কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। সিদ্ধান্ত কে নিয়েছেন, কোন তথ্যের ভিত্তিতে নিয়েছেন এবং কোথা থেকে অনুমোদন এসেছে—এসব তথ্যও নিরীক্ষাযোগ্য হওয়া দরকার।

লেখকের প্রস্তাব অনুযায়ী, আউটসোর্সিংভিত্তিক জনবল নিয়োগের পরিবর্তে নিয়মিত ও স্থায়ী প্রয়োজনের কাজে অনুমোদিত পদে সরাসরি ও স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। তবে এ পরিবর্তনের আগে বিদ্যমান চুক্তি, কর্মরত জনবল, বেতন ও প্রকৃত কাজ পর্যালোচনা করতে হবে। বর্তমানে কর্মরতদের ন্যায্য পাওনা ও অধিকার বিবেচনায় রেখে এবং বিকল্প জনবল নিশ্চিত করেই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে হাসপাতালের সেবা ব্যাহত না হয়।

ক্রয় ও প্রকল্পে পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে

স্বাস্থ্যখাতের প্রকল্প, দরপত্র ও ক্রয়প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ অনলাইনে নথিভুক্ত ও অনুসরণযোগ্য করা প্রয়োজন। চাহিদা নিরূপণ থেকে শুরু করে অনুমোদন, দরপত্রের শর্ত, মূল্যায়ন, কার্যাদেশ, সরবরাহ, গ্রহণ, বিল পরিশোধ ও নিরীক্ষা—সব তথ্য একই ধারাবাহিক রেকর্ডে যুক্ত থাকা উচিত।

শুধু অনলাইন ব্যবস্থা চালু করলেই অনিয়ম বন্ধ হবে না। দরপত্রের শর্ত কোনো নির্দিষ্ট সরবরাহকারীকে সুবিধা দিচ্ছে কি না, প্রতিযোগিতা যথেষ্ট হয়েছে কি না এবং বাজারমূল্যের তুলনায় দর অস্বাভাবিক কি না—এসবও যাচাই করতে হবে। দরপত্রদাতার প্রকৃত মালিকানা, সংশ্লিষ্ট পক্ষ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সম্ভাব্য স্বার্থের সম্পর্ক প্রকাশের ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন।

প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয়, সময়সীমা, ঠিকাদার বা সরবরাহকারী, কাজের অগ্রগতি এবং ব্যয় বৃদ্ধির কারণ সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশ করা যেতে পারে। চুক্তি পরিবর্তন বা সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তও একই রেকর্ডে সংরক্ষণ করতে হবে। জরুরি ক্রয়ের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনের ব্যাখ্যা, অনুমোদন এবং পরবর্তী নিরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রয়োজন যাচাই করে যন্ত্রপাতি কেনা

যন্ত্রপাতি কেনার আগে লিখিত প্রয়োজন মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। কত রোগীর কাজে যন্ত্রটি লাগবে, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে সেবা চালুর সক্ষমতা আছে কি না, প্রশিক্ষিত জনবল রয়েছে কি না এবং কাছাকাছি প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের সুবিধা আছে কি না—এসব বিবেচনায় নিতে হবে।

যন্ত্র বসানোর জায়গা, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা, ব্যবহার্য উপকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রস্তুতি ছাড়া ক্রয় অনুমোদন দেওয়া উচিত নয়। ওয়ারেন্টি, প্রশিক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ, সফটওয়্যার, বিক্রয়োত্তর সেবা ও মেরামতের সময়সীমা চুক্তিতে স্পষ্ট থাকতে হবে।

সরবরাহের পর মডেল, সিরিয়াল নম্বর, আনুষঙ্গিক উপকরণ ও কার্যকারিতা যাচাই করে গ্রহণ করতে হবে। চাহিদা তৈরি, ক্রয় মূল্যায়ন ও সরবরাহ গ্রহণের দায়িত্ব যথাসম্ভব পৃথক রাখাও প্রয়োজন।

ওষুধের মজুদে ডিজিটাল নজরদারি

ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ সংগ্রহ থেকে রোগীর কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত হিসাবের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাচ নম্বর, মেয়াদ, পরিমাণ, গুদামে গ্রহণ, বিভাগে বিতরণ ও অবশিষ্ট মজুদের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। নিয়মিত বাস্তব মজুদের সঙ্গে ডিজিটাল হিসাব মিলিয়ে দেখা দরকার।

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সতর্কবার্তা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বৈধভাবে মজুদ পুনর্বণ্টনের ব্যবস্থা থাকতে পারে। সরকারি হাসপাতালে কোন প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরীক্ষা পাওয়া যাচ্ছে, সে তথ্য রোগীদের সহজভাবে জানানোও জরুরি।

মজুদ থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে ওষুধ বা পরীক্ষা করানোর অভিযোগ পাওয়া গেলে তা দ্রুত যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘাটতি দেখা দিলে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার দায়িত্বও নির্ধারণ করতে হবে।

অভিযোগ ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ও জবাবদিহি

রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী ও নাগরিকদের নিরাপদে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা দুর্নীতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইন, টেলিফোন ও সরাসরি—সব ধরনের অভিযোগ গ্রহণের সুযোগ থাকতে হবে। প্রতিটি অভিযোগের জন্য একটি নম্বর, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং অগ্রগতি জানার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

জরুরি রোগী-নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত আলাদা করে নিষ্পত্তি করতে হবে। পরিচয় গোপন রেখে তথ্য দেওয়ার সুযোগ এবং প্রতিশোধমূলক হয়রানি থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থাও থাকা দরকার। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হলেই অভিযোগকারীকে অসৎ ধরে নেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি যাচাই ছাড়া অভিযুক্তকেও দোষী ঘোষণা করা যাবে না।

সরকারি-বেসরকারি সেবায় স্বচ্ছতা

সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয়েও স্বচ্ছতা প্রয়োজন। চিকিৎসা, পরীক্ষা, শয্যা, অস্ত্রোপচার ও অন্যান্য সেবার সক্ষমতা, মান ও মূল্য সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ করা যেতে পারে। মূল্যতালিকা, প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত সেবা এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের শর্ত রোগীকে আগেই জানানো প্রয়োজন।

রোগীকে খাতভিত্তিক বিল দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। ঘোষিত কমিশন বা আর্থিক স্বার্থের কারণে রোগী পাঠানোর অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা দরকার। সরকারি অর্থে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা কেনা হলে যোগ্য রোগী নির্বাচন, সেবা যাচাই, বিল পরিশোধ এবং অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার সীমা চুক্তিতে স্পষ্ট থাকতে হবে।

জনবল বাড়ানোর প্রস্তাব

স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার বাস্তবায়নে দক্ষ জনবল প্রয়োজন। লেখক সরকারের কাছে ৫১তম বিসিএসে ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ এবং এ নিয়োগে বয়সসীমা ৩৪ বছর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন। নিয়োগের পর চার মাসের সমন্বিত প্রশিক্ষণেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে এটি একটি প্রস্তাবিত নিয়োগ-লক্ষ্য। শূন্যপদ, সম্প্রসারিত সেবার প্রয়োজন এবং অর্থায়ন যাচাই করে বাস্তবায়নের কাঠামো নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসকের পাশাপাশি নার্স, টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট ও সহায়ক কর্মীর প্রয়োজনও পূরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণে দুই মাস মৌলিক প্রশিক্ষণ, এক মাস হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা এবং এক মাস চিকিৎসক-রোগীর কার্যকর যোগাযোগ অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। নৈতিকতা, রোগীর অধিকার, সম্পদের সঠিক ব্যবহার, অনিয়ম জানানোর পদ্ধতি ও স্বার্থের সংঘাত চিহ্নিত করার বিষয়ও প্রশিক্ষণে রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা

স্বাস্থ্যখাত পুনর্গঠনের জন্য লেখক পাঁচ ধাপে একটি সময়সূচির প্রস্তাব করেছেন।

প্রথম ৩০ দিন: দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও সমন্বয়ব্যবস্থা নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ, অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা সচল এবং উচ্চঝুঁকির প্রকল্প ও ক্রয়ের প্রাথমিক তালিকা তৈরি।

৩১ থেকে ৯০ দিন: নির্বাচিত উচ্চঝুঁকির প্রতিষ্ঠানে আর্থিক ও বাস্তব যাচাই শুরু, জনবল ও যন্ত্রপাতির তালিকা প্রস্তুত এবং ক্রয় ও প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ।

তিন থেকে ছয় মাস: নিরীক্ষার সুপারিশ বাস্তবায়ন, প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়োগ ও পদায়নে স্বচ্ছ মানদণ্ড চালু এবং আউটসোর্সিং থেকে উত্তরণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা।

ছয় থেকে ১২ মাস: পরীক্ষামূলক ব্যবস্থার ফল যাচাই করে সফল পদ্ধতি সম্প্রসারণ, প্রয়োজনীয় নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ শুরু এবং মূল্যতালিকা ও অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা কার্যকর করা।

প্রতি বছর: অর্থ পুনরুদ্ধার, নিরীক্ষার আপত্তি নিষ্পত্তি, প্রতিযোগিতামূলক ক্রয়, ওষুধের প্রাপ্যতা, যন্ত্রপাতির সচলতা, রোগীর অপেক্ষার সময় এবং অভিযোগ সমাধানের ফল প্রকাশ করা।

স্বাস্থ্যখাতের সংস্কারের সাফল্য শুধু মামলা, শাস্তি বা অর্থ পুনরুদ্ধারের সংখ্যায় মাপা উচিত নয়। চিকিৎসা কতটা সুলভ হলো, প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে কি না, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমেছে কি না এবং দায়িত্বশীল স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারছেন কি না—এসব সূচকও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি প্রয়োজন কার্যকর প্রতিষ্ঠান, পেশাগত দক্ষতা ও ধারাবাহিক নজরদারি। সিদ্ধান্তের কারণ দৃশ্যমান, ব্যয়ের হিসাব যাচাইযোগ্য এবং অভিযোগের প্রতিকার নিশ্চিত হলে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার সুযোগ বাড়বে।

রাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসম্পদ শেষ পর্যন্ত মানুষের চিকিৎসায় যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না—এই প্রশ্নকেই স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের মূল মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।লেখক: অধ্যাপক ডা. এ কে এম মতিউদ্দিন ভূঁইয়া মাসুম, এমবিবিএস (বিএমসি), এমডি (কার্ডিওলজি), বিভাগীয় প্রধান—কার্ডিওলজি, পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad