খুলনায় গ্যাসের তীব্র সংকট, দীর্ঘ লাইনে চালকদের দুর্ভোগ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৯ বিকাল
  • ৫৯৯২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
খুলনায় সিএনজি ও এলপিজির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গ্যাসের জন্য মঙ্গলবার দিনভর নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে চালকদের। মুজগুন্নীর ডি এম অটো ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস সাপ্লাই স্টেশনের সামনে যানবাহনের সারি প্রায় এক কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে কয়েকজন চালক ভ্যানে করে গাড়ি বাড়িতে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এতে বন্ধ হয়ে গেছে তাদের দিনের আয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবার গভীর রাত থেকে খুলনা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকট দেখা দেয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে মুজগুন্নী, গল্লামারী, খালাসির মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। মুজগুন্নীতে দীর্ঘ যানজটের কারণে ব্যস্ত সড়কের এক পাশের চলাচলও ব্যাহত হয়।

দুপুর থেকে মুজগুন্নীর একটি স্টেশনে অপেক্ষায় থাকা সিএনজি চালক ইদ্রিস বলেন, দুপুর ১২টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও বিকেল পর্যন্ত গ্যাস পাননি। সাধারণত সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা বা ১০টা পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে আয় করেন তিনি। কিন্তু গ্যাস না পাওয়ায় মঙ্গলবার কোনো আয় করতে পারেননি।

ইদ্রিস জানান, গ্যাস না পেয়ে গাড়িটি ভ্যানে করে বাড়িতে নিতে হয়েছে। এ জন্য ভ্যানচালককে ২০০ টাকা দিতে হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এই আয় দিয়েই সংসার চলে। এক দিন গাড়ি বন্ধ থাকায় সংসার চালানো নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

আরেক সিএনজি চালক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে তা মেনে নেওয়া সম্ভব; কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে হয়রানি করা উচিত নয়। তিনি দ্রুত সংকট সমাধানের দাবি জানান।

এলপিজিতেও সংকট

সিএনজির পাশাপাশি এলপিজি সরবরাহেও সংকট দেখা দিয়েছে। গাড়ির মালিক আরিফ আহমেদ জানান, সোমবার খুলনা থেকে ডুমুরিয়া যাওয়ার পথে জিরো পয়েন্টসংলগ্ন খালাসির মোড়ের মারিয়া পেট্রোল পাম্পে এলপিজি নিতে গিয়ে তা পাননি। ফেরার পথে গাড়ির এলপিজি শেষ হয়ে গেলে বাধ্য হয়ে অকটেনে গাড়ি চালাতে হয়।

গাড়ির মালিক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, মঙ্গলবার সকালে সোনাডাঙ্গা, গল্লামারী, খালাসির মোড় ও ময়ূরী আবাসিক এলাকার আশপাশের কয়েকটি এলপিজি স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস পাওয়া যায়নি। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান চালক রিয়াজ শাওন।

মেট্রোপলিটন ফিলিং স্টেশনের মালিক মাসুদ হোসেন রনি বলেন, কয়েক দিন ধরে এলপিজি সরবরাহে সংকট চলছে। বিভিন্ন কোম্পানি চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দিতে পারছে না। তাদের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও নিয়মিত সরবরাহ করতে পারছে না।

তিনি বলেন, সাধারণত চার থেকে পাঁচ হাজার লিটার গ্যাসের জন্য পে-অর্ডার করা হয়। কিন্তু সরবরাহ ঘাটতির কারণে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অন্য অনেক কোম্পানিও গ্যাস আনতে পারছে না। ফলে সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে মাসুদ হোসেন বলেন, এক থেকে দুই দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে তাদের জানানো হয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad