পিতা হত্যা মামলায় ছেলের যাবজ্জীবন

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১০ বিকাল
  • ২৭৮০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
বরিশালে পিতা আলী আকবর হাওলাদার হত্যা মামলায় ছেলে পলাশ হাওলাদারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ১৬ বছর পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

বরিশালের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. সোহেল আহমেদের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত পলাশ হাওলাদার পলাতক ছিলেন। আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

মামলার অপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাঁদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

যেভাবে হত্যাকাণ্ড

আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডিত পলাশ হাওলাদার বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পরমানন্দ সাহা গ্রামের মৃত আলী আকবর হাওলাদারের ছেলে। নিহত আলী আকবর পেশায় দিনমজুর ছিলেন। তাঁর স্ত্রীও দীর্ঘদিন আগে মারা যান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পলাশ প্রথমে জোছনা আক্তারকে বিয়ে করেন। প্রায় এক বছর সংসার করার পর পরিবারের অমতে সুইটি বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে উঠতে চাইলে আলী আকবর এতে বাধা দিতেন। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

এদিকে প্রথম স্ত্রীকে ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগে জোছনা আক্তার পলাশের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় পলাশ কিছুদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান। বাদীর অভিযোগ, ওই মামলা করার পেছনে তাঁর বাবা ইন্ধন দিয়েছেন—এমন ধারণা থেকে পলাশ তাঁর বাবার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।

২০১০ সালের ২ মে সন্ধ্যার পর বাবা-ছেলের মধ্যে এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। ওইদিন দিবাগত রাতে পলাশসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন ব্যক্তি ঘুমন্ত আলী আকবরকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

পরদিন ৩ মে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে প্রতিবেশী আলমগীর হাওলাদার পাশের একটি ধানখেতে আলী আকবরকে হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা এবং চোখ-মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর শরীরে রক্তাক্ত জখমও ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দীর্ঘ বিচার শেষে রায়

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৫ মার্চ উজিরপুর মডেল থানার তৎকালীন ওসি সুকুমার রায় তিনজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলায় একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

দীর্ঘ ১৬ বছর বিচারিক কার্যক্রম শেষে বুধবার আদালত পলাশ হাওলাদারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad