বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। তারেক রহমান বলেন, এই জোট নতুন নয়; ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের নির্বাচনসহ বিভিন্ন সময় তারা গোপনে একসঙ্গে কাজ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
নির্বাচনের আগে ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রির মতো প্রচারণা চালানোর অভিযোগও করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমানে তথাকথিত ‘এক দফা’র আওয়াজ তুলে সরকারের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫০ শয্যার ঘোষণাজনসভায় দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন তারেক রহমান। গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য শহরমুখী হওয়া ঠেকাতে উপজেলা পর্যায়েই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনুর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিবর্তে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের উপজেলাগুলোতে ৩০ শয্যার হাসপাতাল করেছিলেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সেগুলো ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন।
ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের কথা তুলে ধরেনসরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় সেবাদানকারীদের সম্মানী দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি নদী-খাল খনন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
নদী ও খাল খননের ফলে এ অঞ্চলে প্রায় ৩৪ হাজার টন অতিরিক্ত ধান উৎপাদনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এসব কর্মসূচি শুধু বিএনপির নয়, দেশের মানুষের কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষিঋণ মওকুফের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।
১,৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধনএর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন।
প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। কাজ শেষ করার সম্ভাব্য সময় ২০৩০ সাল বলে জানানো হয়েছে।
পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বন্ধ শিল্প চালুর উদ্যোগস্বৈরাচারী আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতেই ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।
জনগণকে অপপ্রচার সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হলে সংশ্লিষ্টদের দায় নিতে হবে। তাঁর বক্তব্যে, ‘দল যার যার, দেশটা সবার’—গণতন্ত্র অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।
সৌরবিদ্যুৎ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিফুলগাজীতে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় সরকারি ভবনের ছাদে স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
ফেনীর পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনে মোট ৯৬২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫, পরশুরামে ২৯৮ এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেম রয়েছে। অন্যান্য প্রতিবেদনে মোট সক্ষমতা ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
জনসভায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরতদের সম্মানী প্রদান কর্মসূচিতেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু ও ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নানা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি। ফেনী-১ আসনের সঙ্গে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ও পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৯১ সাল থেকে এ আসনে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক