বিক্ষোভের মুখে ফ্রান্স সরকারের বড় সিদ্ধান্ত, উত্তাল হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৫ রাত
  • ৩৩১১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভের মুখে দুই বছর মেয়াদি বিটিএস ও প্রেপা কোর্সের বার্ষিক ফি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এখন থেকে স্নাতক পর্যায়ের আগে বিএসি পাসের পর নেওয়া এসব কোর্সে শিক্ষার্থীদের কোনো বার্ষিক ফি দিতে হবে না। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফরে এ ঘোষণা দেন।

এর আগে এসব কোর্সের জন্য শিক্ষার্থীদের বছরে প্রায় ২৭০ ইউরো ফি দিতে হতো। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই সরকার ফি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলেও দেশজুড়ে বিক্ষোভ থামেনি। বরং বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের এক হাজারের বেশি হাই স্কুলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন ১ হাজার ২০টিরও বেশি হাই স্কুল ধর্মঘটে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২২২টি স্কুল পুরোপুরি অবরুদ্ধ ছিল। অথচ ২৮ সেপ্টেম্বর অবরুদ্ধ স্কুলের সংখ্যা ছিল ১৮০টি। অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আন্দোলনের বিস্তার আরও বেড়েছে। বর্তমানে দেশটির প্রায় প্রতি চারটি হাই স্কুলের একটিতে কোনো না কোনোভাবে বিক্ষোভ চলছে।

প্যারিসের উপকণ্ঠ ক্রেতেইয়ের সাঁ-দেকজুপেরি হাই স্কুলে প্রায় ১০ দিন আগে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং কয়েকটি এলাকায় শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষও ঘটে।

বিক্ষোভের বিভিন্ন স্থানে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠার খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি বড় শহরে জ্বলন্ত ডাস্টবিন থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু স্কুলেও ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

মন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, আন্দোলনটি এখন ‘নগরভিত্তিক সহিংসতার দিকে’ চলে যাচ্ছে। শুধু বৃহস্পতিবারই প্রায় ১ হাজার ৯৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফরে জানিয়েছেন, আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬৫ জন স্কুলকর্মী এবং ১৭০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভ এখন ‘চরম সহিংস গোষ্ঠীগুলোর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে’।

তবে শিক্ষার্থীদের কিছু দাবির প্রতি সমর্থন রয়েছে স্কুল প্রধানদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নের। সংগঠনটির প্রধান ব্রুনো ববকিয়েভিচ বলেন, শিক্ষার্থীদের কিছু দাবির সঙ্গে তারা একমত। কিন্তু আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি অংশ শুধু ভাঙচুরে যুক্ত হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তার ভাষায়, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে আন্দোলনটি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad