বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নোয়াখালীপাড়া ও রঙ্গিখালীর পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত অপহরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতর ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) একজন ডিআইজি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি বা সীমান্তে জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের অধীনে কার্যক্রম পরিচালিত হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) নির্ধারণ করা রয়েছে।
ক্যাম্পে মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচার বড় সমস্যারোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক কারবার, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আনাগোনা ক্যাম্পের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে। এর পাশাপাশি নানা ধরনের সাধারণ অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে।
এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন কাজ করছে। সম্প্রতি এপিবিএনের আইনগত কাঠামোয় তদন্তের সুযোগ রাখা হয়েছে। বাহিনীটিতে প্রায় ৪০০ সাব-ইন্সপেক্টর পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন। তাঁদের তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ায় ক্যাম্পের অপরাধ তদন্তে এপিবিএনের কর্মকর্তারা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে জানান তিনি।
কাঁটাতার, লাইটিং ও নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরের নষ্ট হয়ে যাওয়া ফেন্সিং বা কাঁটাতার পুনর্নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা করা হবে। নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর সার্কিট ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি কন্ট্রোল টাওয়ার ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হবে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আলাদা উচ্চপর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা এবং জাতিসংঘের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব বলে তারা বিশ্বাস করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্যাটি সমাধানে আমরা প্রচেষ্টায় আছি। তবে সময় ইতোমধ্যে অনেক অতিবাহিত হয়েছে, সমস্যাও অনেক ভারী হয়েছে। আমরা আশা করব, এই সমস্যা থেকে আমরা খুব শিগগিরই মুক্তি পাব।’
এদিকে রোহিঙ্গাদের জন্য পৃথক কারাগার স্থাপনের কোনো প্রস্তাব তাঁর জানা নেই বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এর আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড এবং রোহিঙ্গা রিফিউজি রিলিফ অ্যান্ড রিপ্যাট্রিয়েশন কমিশনারের (আরআরআরসি) প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক