জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ১৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তার

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৯ বিকাল
  • ৩৬৩৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অন্তত ১৫০ জনকে হত্যা, গুম, নির্যাতন ও অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া জবানবন্দিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম এসব অভিযোগ তুলে ধরেছেন।

বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে তিনি এ মামলায় ১৫তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। তার দাবি, তদন্তে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

র‍্যাবে যোগ দেওয়ার পর ক্ষমতাকেন্দ্রের আস্থাভাজন

জবানবন্দিতে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ২০০৯ সালে মেজর পদে র‍্যাবে পোস্টিং পাওয়ার পর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জিয়াউল আহসান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। ২০২৪ সালে মেজর জেনারেল হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ফিরে না গিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়।

রফিকুল ইসলামের দাবি, প্রয়োজনীয় কোর্স বা প্রশিক্ষণ এবং ব্যাটালিয়ন, ব্রিগেড বা ফরমেশন কমান্ডের অভিজ্ঞতা ছাড়াই জিয়াউল আহসান মেজর জেনারেল পদে উন্নীত হন।

গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত র‍্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জিয়াউল আহসান অসংখ্য গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন।

তার দাবি, জিয়াউলের নির্দেশ, অনুমোদন ও জ্ঞাতসারে র‍্যাবের সদস্যরা গুম, আটক, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডে অংশ নিতেন। গুমের শিকার ব্যক্তিদের কাউকে ‘ক্রসফায়ার’, আবার কাউকে ‘বনদস্যু দমন অভিযান’-এর নামে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, কোনো হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যে এলে প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে সেটিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হতো। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে সুরতহাল, ময়নাতদন্ত ও পুলিশ প্রতিবেদনে ভুল বা অসত্য তথ্য দেওয়ার ঘটনাও তদন্তে পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন রফিকুল ইসলাম।

কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে র‍্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক থাকাকালে জিয়াউল আহসান র‍্যাবের দুটি দল নিয়ে আগে থেকেই আটক থাকা সজলসহ তিন বন্দীকে নিয়ে র‍্যাব সদর দপ্তর থেকে বের হন। টঙ্গী হয়ে ঢাকা বাইপাস সড়কে যাওয়ার পর বন্দীদের গুলি করে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।

২০১৫ সালের মার্চে সাবেক বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম মল্লিককে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে আটক করে গোপন স্থানে রাখা হয় বলেও দাবি করা হয়। পরে বরগুনার বলেশ্বর নদীতে জিয়াউলের নেতৃত্বে তাকে আরও কয়েকজনের সঙ্গে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহের পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করে সিমেন্টের ব্লক বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় ব্যবহৃত ট্রলার মালিকদের একজন আলকাছ মল্লিক বিষয়টি পরিচিতদের জানালে পরে জিয়াউলের নির্দেশে তাকে ডেকে নেওয়া হয় এবং এরপর তার আর সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত কর্মকর্তা দাবি করেন।

এ ছাড়া ২০১১ সালের ১২ নভেম্বর সুন্দরবনের নিশানখালীতে বনদস্যু দমনের নামে মাসুদ ও মান্নানকে এবং ২০১২ সালের ১৬ মার্চ সুন্দরবনের দক্ষিণাংশে জিহাদ, সোহাগ, আল-আমিন, আসাদ ও বেল্লালকে হত্যার অভিযোগও জবানবন্দিতে তুলে ধরা হয়।

২০১২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বরগুনার পাথরঘাটা থেকে সুন্দরবনের কটকা এলাকার দিকে যাওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তিকে ট্রলারে তুলে নেওয়া এবং পথে কয়েকজনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

‘কমপক্ষে ১৫০ জনকে হত্যা’

জবানবন্দির শেষদিকে রফিকুল ইসলাম বলেন, জিয়াউল আহসান আইন ও বিচারের তোয়াক্কা না করে সজল, সাবেক বিডিআর সদস্য নজরুল, আলকাছ মল্লিক, মাসুদ, মান্নান, জিহাদ, সোহাগ, আল-আমিন, আসাদ, বেল্লাল, শিশির কুমার মণ্ডল, হেমন্ত মেম্বার, বাচ্চু, জামাল মুন্সীসহ অজ্ঞাতনামা কমপক্ষে ১৫০ জনকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে।

ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলায় এসব অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী সাক্ষ্য ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়গুলো নির্ধারিত হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad