তবে কীভাবে কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, মৃত্যুর কারণ জানতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। বাবার চাকরির সুবাদে কুমিল্লায় বেড়ে ওঠা তাজমিন কুমিল্লা ফরিদা বিদ্যায়াতনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায়পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চার দিন আগে তাজমিন বাসা থেকে এক বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বের হয়। পরে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায় সে। সেখান থেকে বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল।
মেয়ের কক্সবাজার থেকে ফেরার বিষয়টি জানতে পেরে বুধবার রাতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেন বাবা আবদুল আলীম। তবে কোনো কলই তাজমিন ধরেনি। এরপর মেয়ের সন্ধানে বের হন তিনি।
বৃহস্পতিবার ভোরে লালমাই থানায় গিয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা লাশটি নিজের মেয়ে জান্নাতুল তাজমিনের বলে শনাক্ত করেন আবদুল আলীম।
ধানক্ষেতে লাশ, পাশে পরিত্যক্ত সিএনজিস্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ধানক্ষেতে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। একই স্থানে একটি সিএনজি অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ সেটিও জব্দ করেছে।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, কিশোরীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ সূত্র জানায়, কিশোরীর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। লাশের পাশে পাওয়া সিএনজি অটোরিকশাটিও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। কিশোরী কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছাল এবং তার মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক