স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুরপুর এলাকায় ধানি জমি ভরাট করে ১৭ দশমিক ২৬ শতক জমির ওপর ‘মুসাফির হাউজ-২’ নামে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবনটিতে প্রবেশের নিজস্ব রাস্তা না থাকায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের হাউজিং এস্টেটের হাইকোর্ট কলোনির বাউন্ডারি দেয়াল ভেঙে সরকারি ৪ নম্বর সেকশনের সড়কের সঙ্গে সংযোগ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি দেয়াল ভাঙার স্বীকারোক্তিঅভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবাসন প্রকল্পের স্বত্বাধিকারী হিসেবে উল্লেখিত মো. মাইনুদ্দিন দাবি করেন, দেয়ালটি তাঁদের জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছিল এবং গত বছর তাঁরাই এটি তৈরি করেছিলেন। চলাচলের রাস্তা তৈরির জন্য দেয়ালটি ভাঙা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনাস্থলে কাজ করার সময় পাওয়া সাইফুল ইসলামও দেয়ালটি ভাঙার কথা স্বীকার করে বলেন, ওই দিক দিয়ে চলাচলের রাস্তা তৈরি করা হবে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। নুরপুরের বাসিন্দা আবু তাহের বলেন, প্রায় ১৫ বছর আগে সরকার দেয়ালটি নির্মাণ করেছিল। কয়েকজন ব্যবসায়ী নিজেদের স্বার্থে সেটি ভেঙে ফেলেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গাছ কাটা নিয়ে উদ্বেগস্থানীয়দের অভিযোগ, দেয়াল ভাঙার পর রাস্তার সংযোগস্থলে থাকা হাউজিং এস্টেটের একাধিক আমগাছসহ বিভিন্ন বনজ গাছ কেটে চলাচলের পথ তৈরির চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় সরকারি সম্পদ রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হাইকোর্ট কলোনির বাসিন্দা ইসহাক মিয়া বলেন, আগে ওই অংশে কোনো সরকারি রাস্তা বা যাতায়াতের পথ ছিল না।
হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম, আবুল কালাম ও আব্দুর রউফের অভিযোগ, দেয়াল ভেঙে ফেলায় স্থানটি উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। তাঁদের দাবি, এতে দিনরাত মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিচরণ বেড়েছে এবং এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সড়কের মুখে থাকা পুরোনো গাছগুলো কেটে ফেলার আশঙ্কাও করছেন তাঁরা।
কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবিস্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ভেঙে ফেলা দেয়াল ও রাস্তার মুখ বন্ধে হাউজিং এস্টেট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকার পরিবেশ ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
তিনি সরকারি দেয়াল ও গাছপালা রক্ষায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
তবে দেয়াল ও সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা, রাস্তা নির্মাণের অনুমোদন এবং গাছ কাটার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা প্রয়োজন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক