সোমবার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পরিবর্তন
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, আজ রাষ্ট্রপক্ষের দশম সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে। এর আগে গত ৮ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে ওই দিন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত থাকলেও অন্য একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ থাকায় সময় চেয়ে আবেদন করে প্রসিকিউশন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে ১২ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলায় নবম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী।
চার আসামি কারাগারে, বাকিদের অনেকে পলাতক
মামলার ২৮ আসামির মধ্যে বর্তমানে চারজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাঁরা হলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, আনসার সদস্য ওমর ফারুক ও যুবলীগকর্মী ফজলে রাব্বি।
অন্যদিকে নানক ও তাপসসহ অন্য আসামিদের মধ্যে পলাতক রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) রওশুনুল হক, এম এ সাত্তার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম, শেখ বজলুর রহমানসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী।
তিন অভিযোগে বিচার চলছে
প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে মোহাম্মদপুর এলাকায় আসামিদের প্রত্যক্ষ উসকানি, নির্দেশ ও অংশগ্রহণে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে শিক্ষার্থী ফারহান ফাইয়াজ ও মাহমুদুর রহমান সৈকতসহ নয়জন নিহত হন। এ ঘটনায় বহু আন্দোলনকারী আহত হন।
মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক