চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে ইকুয়েডর। এই ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দে দেশব্যাপী জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া।
বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে জার্মানিকে ২-১ গোলে পরাজিত করে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রেসিডেন্ট নোবোয়া ঘোষণা দেন, ২৬ জুন (শুক্রবার) সারা দেশে সরকারি ছুটি পালন করা হবে। পরে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়।
প্রেসিডেন্ট নোবোয়া লিখেছেন, “সমালোচনা, অপমান ও কঠিন সময় অতিক্রম করেও খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পুরো জাতিকে আনন্দ উপহার দিয়েছে, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আগামীকাল ছুটি।”
সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, এ ছুটি সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতের জন্য প্রযোজ্য। এ দিনের কর্মঘণ্টা পরে পুষিয়ে দিতে হবে না। তবে হাসপাতাল, জরুরি চিকিৎসাসেবা, বিদ্যুৎ, পানি, অগ্নিনির্বাপণ, বিমানবন্দরসহ অন্যান্য জরুরি সেবা যথারীতি চালু থাকবে।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ইকুয়েডরের জন্য ছিল হতাশাজনক। দ্বিতীয় মিনিটেই লেরয় সানের গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। তবে নবম মিনিটে নিলসন আঙ্গুলো সমতা ফেরান। এরপর ৭৭তম মিনিটে গনসালো প্লাতার দুর্দান্ত গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ইকুয়েডর।
এই জয়ে সেরা তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় ইকুয়েডর। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউটে উঠল দেশটি।
ম্যাচ শেষে ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে একে দেশের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, শুরুতে হতাশাজনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাস হারায়নি। সেই বিশ্বাস ও লড়াইয়ের মানসিকতাই তাদের ইতিহাস গড়তে সহায়তা করেছে।
জার্মানির বিপক্ষে এই স্মরণীয় জয় শুধু নকআউটের টিকিটই এনে দেয়নি, ইকুয়েডরের কোটি ফুটবলপ্রেমীর জন্যও সৃষ্টি করেছে এক অনন্য উৎসবের আবহ। ঐতিহাসিক এই অর্জন উদযাপনে এক দিনের জন্য থমকে গেছে দেশটির কর্মব্যস্ত জীবন।

মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার