ব্রাজিল বিদায় নিলেও পুরো ম্যাচ জুড়ে নেইমারকে শুরুতে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা এবং সীমিত সময়ের জন্য মাঠে নামানো নিয়ে কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র হতাশা ব্যক্ত করেছেন মাশরাফি। তার বিশ্বাস, সময়ের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার যদি মাঠে একটু বেশি সময় পেতেন, তবে ম্যাচের ফলাফল অন্যরকমও হতে পারত।
ম্যাচ শেষে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক হ্যান্ডেলে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে মাশরাফি লেখেন:
"শুধু নেইমারের জন্য মনটা ভীষণ খারাপ হচ্ছে। হয়তো আর বিশ্বমঞ্চে দেখা হবে না তাকে। ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিককে এভাবে বেঞ্চে বসে থাকতে দেখে খুবই বিরক্ত লেগেছে। একটু বেশি সময় পেলে হয়তো গল্পটা অন্যরকমও হতে পারতো। বিদায় বেলায় কান্না দেখে খুব খারাপ লাগছিল।"
নেইমারের জাদুকরী ফুটবল শৈলীর প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, "কী অসাধারণ একজন ড্রিবলার! কী অ্যাকুরিসি ছিল তার পায়ে! তার চেয়ে সহজভাবে কেউ পেনাল্টি মারতে পারে বলে মনে হয় না। ক্যারিয়ারটা কী দারুণ হতে পারতো, অথচ সেটার কাছাকাছিও যেতে পারলো না।"
ম্যাচে ব্রাজিল দুটি পেনাল্টি পেয়েও তা কাজে লাগাতে না পারায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রোলের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। তবে পেনাল্টি মিসকে ফুটবলের চিরন্তন অংশ হিসেবেই দেখছেন সাবেক এই পেসার। ফ্রান্স ও কাতার বিশ্বকাপের উদাহরণ টেনে মাশরাফি লেখেন, "দুই দুটি পেনাল্টি পেয়েও হেরে গেল ব্রাজিল। বিগত চারটা বছর এই পেনাল্টি পেনাল্টি করে চিল্লাপাল্লা করে আজ সেই পেনাল্টিই কাল হয়ে দাঁড়াল। পেনাল্টি খেলারই অংশ, আবার মিস করাও খেলার অংশ; এটা ভুলে গেলে হয় না। এমন না যে, পেনাল্টি পেলেই কেউ বিশ্বকাপ জিতে যাবে। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স দুটি পেনাল্টি পেয়েছিল। তারপরও সহজ গোল মিস করে টাইব্রেকারে হেরেছে।"
সবশেষে চিরচেনা আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ফুটবলের বৈরিতা ও খুনসুটি বজায় রেখেই ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন মাশরাফি। মজার ছলে তিনি লিখেছেন:
"ব্রাজিল ভক্তদের জন্য রইলো সমবেদনা। হেক্সা হবেই, এবার হয়নি, তবে..... আমরা যারা আর্জেন্টিনা ভক্ত, তাদের কাছ থেকে মানসিক শক্তি নিতে পারো। কারণ, এই কষ্ট আমাদের থেকে আর কেউ ভালো জানে না। ৩৬টা বছর যেন তেন বিষয় না। আমি তো বলি পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা সমর্থক একমাত্র আমরাই।"
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর এই নাটকীয় বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেমন মাশরাফির এই পোস্ট ভক্তদের নজর কেড়েছে, তেমনি নেইমারের কান্না ও ব্রাজিলের বিদায় নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক