না খেয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা? বাড়ছে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি!

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৮ দুপুর
  • ১৩৩৩০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
ব্যস্ত জীবনযাত্রা কিংবা দ্রুত ওজন কমানোর চক্করে পড়ে অনেকেই এখন সময়মতো খাবার খাচ্ছেন না। সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া, দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা কিংবা সারাদিন শুধু চা-কফির ওপর ভরসা করে কাজ চালিয়ে নেওয়া অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই আপাত সাধারণ অনিয়মই আপনার শরীরে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনছে। এটি শুধু তাৎক্ষণিকভাবে শরীরের শক্তিই কমায় না, বরং দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌যন্ত্র (হার্ট) ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।​বিপাকক্রিয়ায় বড় ধাক্কা ও রক্তে শর্করার বৃদ্ধি

​হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম ওলটপালট হয়ে যায়। তখন বেঁচে থাকার শক্তির চাহিদা পূরণে শরীর তার বিকল্প উৎস হিসেবে প্রোটিন ও চর্বি ব্যবহার করা শুরু করে। একই সঙ্গে পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের ক্ষতিকর নিঃসরণ বাড়ে এবং রক্তে শর্করার (ব্লাড সুগার) মাত্রা হুট করে বৃদ্ধি পেতে পারে—যা হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

​তরুণ প্রজন্মের ভুল ধারণা ও চিকিৎসকদের উদ্বেগ

​আজকাল অনেক তরুণ-তরুণী দ্রুত ওজন কমানোর আশায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকেন কিংবা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম খাবার খান। চিকিৎসকদের মতে, এই মারাত্মক ভুল অভ্যাস হৃদ্‌রোগের পাশাপাশি শরীরে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়।

​এ ছাড়া, সারাদিন চা-কফি খেয়ে ক্ষুধা চেপে রাখার পর যখন একবারে অতিরিক্ত পরিমাণে ভাজাপোড়া বা ফাস্টফুড খাওয়া হয়, তখন শরীরে প্রদাহ (ইনফ্ল্যামেশন) তৈরি হয়। এর ফলে ক্যালোরি পোড়ানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং ওজন কমার বদলে উল্টো চর্বি জমে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:

"একবারে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে প্রতি ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পরপর অল্প পরিমাণে খাবার খাওয়া উচিত। দিনে ৫ থেকে ৬ বার পরিমিত ও সুষম খাবার খেলে শরীরের বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে এবং হুট করে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতাও কমে যায়।"


​সুস্থ থাকতে সারাদিনের খাদ্যতালিকায় যা রাখবেন:

​চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ হার্ট ও সুন্দর শরীরের জন্য একটি আদর্শ সুষম খাদ্যতালিকা নিচে দেওয়া হলো:

দিনের শুরু ও সকালের নাস্তা: দিনের শুরুতে যেকোনো একটি মৌসুমি ফল খাওয়া যেতে পারে। এরপর সকালের নাস্তায় দুধ-কর্নফ্লেক্স, তাজা ফলের রস কিংবা দোসার মতো হালকা ও পুষ্টিকর খাবার রাখা ভালো। ​দুপুরের খাবার: দুপুরের মেন্যুতে পরিমিত ভাত বা রুটির সাথে ডাল, প্রচুর পরিমাণের সবজি এবং দই রাখা যেতে পারে। ​রাতের খাবার: রাতের খাবার হালকা হওয়া উচিত। রুটি, ডাল বা সবজির সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে মাছ কিংবা মুরগির মাংস খাওয়া যেতে পারে। ​কাজের ফাঁকে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস: কাজের মাঝে ক্ষুধা লাগলে চা-কফি বা ভাজাপোড়া এড়িয়ে বাদাম, সেদ্ধ ছোলা, টকদই, সয়া মিল্ক, প্রোটিন শেক কিংবা ফ্রুট সালাদ খাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

পরিশেষে:

সময়মতো সুষম ও পরিমিত খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে শুধু হার্টই ভালো থাকে না, বরং ডায়াবেটিস ও স্থূলতার মতো আধুনিক যুগের বড় বড় রোগ থেকেও শরীরকে মুক্ত রাখা সম্ভব। তাই না খেয়ে শরীর শুকানোর ডায়েট প্ল্যান আজই বাদ দিন।

​আপনার এই নিউজটির জন্য কেমন শিরোনাম বা আর কোনো বিশেষ তথ্য যোগ করতে হবে কি?




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad