স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের সাড়ে চার কিলোমিটার অংশই বর্তমানে বেহাল। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে মাটি বেরিয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির সময় এসব গর্ত পানিতে ডুবে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল অন্তত ১৫ গ্রামের মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা। কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফরিদাবাদ বড়বাড়ির ডাঙ্গা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী রুবেল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তাটায় ভ্যানে উঠলে শরীরের হাড্ডিসহ নড়ে। এতটাই ভাঙাচোরা যে চলাচল করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’
তারাগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, ‘রাস্তাটা ভাঙাচোরা হওয়ায় স্কুলে যাওয়ার জন্য অটো-ভ্যান পাওয়াও কষ্টকর। সময়মতো স্কুলে যেতে পারি না। এখন তো হেঁটে যাওয়াও কষ্টকর হয়ে গেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুড়িরহাট, মাছুয়াপাড়া, মাঝাপাড়া, ভাটারপাড়, ফরিদাবাদ, বৈদ্যনাথপুর, বিষ্ণুপুর, মিড্ডারমাল্লি, তেলিপাড়া, অনন্তপুর, ফুলবাড়ি, বড়বাড়ি, মিস্ত্রিপাড়া, হাজীপাড়া, পলাশবাড়ী, খিয়ারচড়া, খানবাড়ির ডাঙ্গা ও ডাঙ্গাপাড়াসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনেও এর গুরুত্ব রয়েছে।
ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মোতালেব হোসেন বলেন, ‘এই সড়ক দিয়ে এখন পায়ে হেঁটে চলতেও কষ্ট হয়। ভ্যান বা অটোতে গেলে প্রচণ্ড ঝাঁকি দেয়। প্রায়ই এই রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটে। রাস্তাটার দিকে কারও নজর নেই।’
খানবাড়ি এলাকার আকিব খান বলেন, ‘রাস্তাটি এখন আর রাস্তা বলে মনে হয় না, মনে হয় মরণফাঁদ। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙনের কারণে তারাগঞ্জ বাজারে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। দিনের বেলায় সতর্ক হয়ে গাড়ি চালানো গেলেও রাতে এই সড়কে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’
ইজিবাইকচালক গোবিন্দ রায় বলেন, প্রতিদিন এই সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। রাস্তা ভাঙা থাকায় যাত্রীও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। বর্ষায় গর্তে পানি জমে থাকায় কোথায় কতটা গভীর গর্ত, তা বোঝা যায় না। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী নাফিউর রহমান বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই সংস্কারকাজ শুরু হবে।

মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)