বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মধ্য দিয়ে দেশ গণতান্ত্রিক পথে ফিরে এসেছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায়ও দ্রুত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেওয়ার কথা। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রলম্বিত করে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের পর ইউনিয়ন পরিষদেও প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বর্তমানে নির্বাচনযোগ্য ইউনিয়নের সংখ্যা প্রায় ৩১১টি। এসব ইউনিয়নে নির্বাচন আয়োজনের পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রাখাকে জনগণের গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার ‘নীলনকশা’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ারের দাবি, গত দুই মাসে সাতটি নবগঠিত ইউনিয়নসহ অন্তত ৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশাল জেলার ১৯টি ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ইউনিয়নে ১২ জন বিএনপি নেতা-নেত্রীকে পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের কর্মকাণ্ডেই ‘গভীর ষড়যন্ত্রের’ প্রমাণ মিলছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চলতি বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরে নির্বাচন করার কথা বললেও ইউনিয়ন পরিষদে এখনো প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের অনিয়মের সুযোগ তৈরি এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার পথ তৈরি করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রলম্বিত করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে দ্রুত স্থানীয় সরকারের সব স্তর থেকে দলীয় প্রশাসক প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের ভবিষ্যৎ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণারও দাবি করেন তিনি।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স