বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএমওর প্রধান সেলেস্তে সাওলো এ সতর্কবার্তা দেন।
তিনি বলেন, ডব্লিউএমওর পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে বর্তমান এল নিনোর গতিপ্রকৃতি সবচেয়ে শক্তিশালী। এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবন ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে খরা ও বন্যার মতো দুর্যোগ দেখা যাচ্ছে এবং এল নিনো আরও শক্তিশালী হলে এসব ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডব্লিউএমও জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে এল নিনোর প্রভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এবং এর প্রভাব ২০২৭ সালেও অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
বাড়বে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিএল নিনো এমন একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা, যার সময় প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন ঘটে। সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনো দেখা দেয় এবং এটি প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়।
ডব্লিউএমও সতর্ক করে বলেছে, সামনের মাসগুলোতে এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এর ফলে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে। একই সঙ্গে বন্যা, খরা ও চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিও বাড়বে।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও এল নিনোর প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে এর প্রভাব ইতোমধ্যে অনুভূত হচ্ছে এবং পৃথিবী বিরূপ আবহাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রবেশ করেছে।
গুতেরেস বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। এ অবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বিভিন্ন অঞ্চলে খরা, দাবানলএল নিনোর প্রভাবে অ্যামাজন অঞ্চল, ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় খরা দেখা দিয়েছে। ভারত ও নিরক্ষীয় অঞ্চলেও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন হয়েছে।
ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে বিশ্বের প্রায় সব স্থলভাগেই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা এবং চরম আবহাওয়া দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এরই মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, জুলাই ও আগস্টে দাবানলের ধোঁয়ার কারণে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে শত শত স্বাস্থ্যকর্মী পাঠিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। পাশাপাশি বাসিন্দাদের মধ্যে মাস্ক ও অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ করা হচ্ছে।
দাবানলের ধোঁয়া ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনেও পৌঁছেছে। বায়ুর মান বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানোয় মালয়েশিয়ার কুচিং, সামারাহান ও সেরিয়ানের মতো কয়েকটি এলাকায় বিদ্যালয়ে সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হাঁপানি ও চোখের সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।
ফিলিপাইনের বাল্যাবাক অঞ্চলের বাসিন্দারাও আকাশে ধোঁয়ার আস্তরণ এবং পোড়া গন্ধ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, সেখানে চোখ চুলকানো, গলাব্যথা ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক