ব্র্যাকে হচ্ছে বাংলাদেশ-চায়না ভাষা, সংস্কৃতি ও গবেষণা কেন্দ্র

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ বিকাল
  • ২২৫১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশ ও চীনের ভাষা, সংস্কৃতি ও গবেষণা নিয়ে কাজ করতে ‘বাংলাদেশ-চায়না সেন্টার ফর ল্যাঙ্গুয়েজ, কালচার অ্যান্ড রিসার্চ’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির সঙ্গে চীনের আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটির সমঝোতার ভিত্তিতে যৌথভাবে এ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে ‘চাইনিজ কালচার ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। চীনা ভাষা ও সংস্কৃতির পরিচিতি তুলে ধরতে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেস (বিআইএল) এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি কমিউনিকেশন অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং বলেন, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ ও চীনের মানুষের পারস্পরিক পরিচয় ও বোঝাপড়া বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের একাডেমিক সম্পর্কের ইতিহাস প্রায় এক হাজার বছরের। ১০৪২ খ্রিষ্টাব্দে বাঙালি বৌদ্ধ শিক্ষক ও ধর্মগুরু অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে এ সম্পর্কের সূচনা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সঙ্গেও চীনের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসটি চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বেইজিং আরবান কনস্ট্রাকশন গ্রুপ ও বাংলাদেশের অ্যাসোসিয়েটেড বিল্ডার্স করপোরেশন লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের এ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির একটি প্রতিনিধি দল চীন সফর করে। এর পর আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশ-চায়না ভাষা, সংস্কৃতি ও গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমতার ভিত্তিতে আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটিতেও ‘বাংলাদেশ কালচার সেল’ প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানান তিনি।

ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের উপদেষ্টা লেডি সৈয়দা সারওয়াত আবেদ বলেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে চীনা ভাষা শিক্ষায় সাতজন নেটিভ ও পাঁচজন নন-নেটিভ শিক্ষক কাজ করছেন। তাঁদের উদ্যোগে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী গ্র্যাজুেট ক্রেডিট কোর্স এবং আরও ২ হাজার শিক্ষার্থী সার্টিফিকেট কোর্স সম্পন্ন করেছেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি তাই চি এবং চীনের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র গুঝেং-এর প্রদর্শনী হয়। সমাপনী বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের পরিচালক অধ্যাপক শায়লা সুলতানা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড, চীনা দূতাবাসের সাংস্কৃতিক বিভাগের সেকেন্ড ও থার্ড সেক্রেটারি হুয়াং মউকং ও শিয়া দাওজিং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক ইয়াং হুই, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক মা শিয়াওইয়ান এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অফিস অব কমিউনিকেশন্সের পরিচালক খায়রুল বাশার।

আয়োজকদের মতে, এ উদ্যোগ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) বিশেষ করে মানসম্মত শিক্ষা (এসডিজি-৪) এবং লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারিত্ব (এসডিজি-১৭) বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad