বুধবার দুপুরে কুয়াকাটায় অভিযান চালিয়ে রাসেলকে আটক করা হয়। পরে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৭০ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল হাওলাদার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার প্রতাপ এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে।
এআই দিয়ে গেজেটে নাম পরিবর্তনপ্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাসেল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার ও প্রতারণা করে আসছিলেন। কুয়াকাটায় এসেও একই পরিচয়ে ‘সি স্টার’ হোটেলে একটি কক্ষ বুক করেন। পরে একটি বিকাশের দোকানে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা ‘চার্জ’ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
তাঁর কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা বিষয়টি প্রশাসনকে জানান। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিজের পরিচয় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে রাসেল ৪৪তম বিসিএসের গেজেট জাল করেন। গেজেটের ২৩২ নম্বর ক্রমিকে থাকা ‘মো. রাসেল মিয়া’ নাম পরিবর্তন করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেখানে ‘মো. রাসেল হাওলাদার’ নাম বসানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল নিজেই এ তথ্য স্বীকার করেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগপত্র জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
দুই বিয়ের ক্ষেত্রেও একই পরিচয়অভিযোগ রয়েছে, রাসেলের দুটি বিয়ে হয়েছে এবং উভয় ক্ষেত্রেই তিনি নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এ অর্থ নেওয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।
অভিযোগ পাওয়ার পর কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেকের নেতৃত্বে মহিপুর থানার এসআই মো. মাসুদ খানসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় রাসেলের কাছে থাকা বিভিন্ন কাগজপত্র ও নথি যাচাই করা হয়।
নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ১৭০ ধারায় তাঁকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেক জানান, এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করা একটি গুরুতর অপরাধ। প্রাপ্ত অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
কেউ সরকারি কর্মকর্তা বা ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখালে কিংবা টাকা দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)