বিয়াঘাট ইউনিয়নের এই প্রবীণ ব্যক্তি মৃত সদর উদ্দিনের ছেলে। কর্মজীবনে মাত্র ৬০ টাকা বেতনে শিক্ষকতা করেছেন। পাশাপাশি এলাকার ছেলেমেয়েদের বিনামূল্যে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। তার দুই মেয়ে ও ছয় ছেলে।
বয়সের ভারে দুর্বল, দৃষ্টিশক্তি এখনো স্বাভাবিকবর্তমানে আব্বাস প্রামাণিকের চলাফেরায় লাঠির প্রয়োজন হয় এবং কানে কম শোনেন। তবে দৃষ্টিশক্তি এখনো অনেকটাই স্বাভাবিক। চশমা ছাড়াই তিনি কোরআন শরিফ পড়তে পারেন। এমনকি হাতে এখনো ক্যাসিও ঘড়ি ব্যবহার করেন।
স্থানীয়দের মতে, তার চেয়ে ৩০-৪০ বছর কম বয়সী অনেকেই চশমা ছাড়া স্পষ্ট দেখতে পারেন না। সে তুলনায় ১২৩ বছর বয়সেও আব্বাসের দৃষ্টিশক্তি তাদের কাছে বিস্ময়কর।
সরেজমিনে জানা যায়, আব্বাসের স্ত্রী অনেক আগেই মারা গেছেন। তার সমবয়সীদেরও কেউ এখন আর বেঁচে নেই। জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি অনেকটা একাই কাটিয়েছেন। বর্তমানে নাতি ও নাতবউরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তার দেখাশোনা করেন।
সাদাসিধে জীবন, ভাঙাচোরা ঘরএকসময় অর্থ-সম্পদ থাকলেও বর্তমানে ভাঙাচোরা একটি ঘরে বসবাস করছেন আব্বাস প্রামাণিক। বয়সের ভারে বহু স্মৃতি ভুলে গেলেও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার চেষ্টা করেন। নিজের কাজ নিজে করারও চেষ্টা করেন তিনি।
তার পছন্দের খাবারের মধ্যে রয়েছে বাতাসা, গরুর দুধ ও মসুর ডাল।
নাতি শফিকুল ইসলাম বলেন, তার দাদা অত্যন্ত ধার্মিক ও সৎ মানুষ। সাদাসিধে জীবনযাপনই তার পছন্দ ছিল। গাড়িতে চড়াকেও বিলাসিতা মনে করতেন। তাই জীবনের বেশির ভাগ সময় হেঁটেই চলাচল করেছেন। এখন শরীর আগের মতো সাড়া না দিলেও লাঠিতে ভর করে বাড়ির উঠানে হাঁটেন।
আরেক নাতি বেলাল হোসেন বলেন, পরিবারের সবাই নিজ নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত। তাই দাদাকে দেখাশোনার জন্য নির্দিষ্ট কেউ নেই। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সবাই তার পাশে থাকার চেষ্টা করেন। ভাঙাচোরা ঘরে থাকা এই প্রবীণের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার সবসময় জোগাড় করাও সম্ভব হয় না।
‘এখনো চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন’আব্বাসের মেয়ে আলিমা বেগম জানান, পাঁচ বছর বয়সে তার মা মারা যান। এরপর বাবার কাছেই বড় হয়েছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই বাবাকে সৎ ও সহজ-সরল জীবনযাপন করতে দেখেছেন। কর্মজীবনে আব্বাস খুবজীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।
আলিমা বেগম বলেন, তার বাবা এখনো চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন। অথচ তার সন্তানদেরই এখন চোখে কিছুটা ঝাপসা দেখার সমস্যা রয়েছে। তিনি সুযোগ পেলেই বাবাকে পছন্দের খাবার নিয়ে দেখতে যান।
প্রশাসনের সহযোগিতাগুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, আব্বাস প্রামাণিক উপজেলার প্রবীণ ব্যক্তিদের একজন। বয়সের কারণে তিনি তেমন চলাফেরা করতে পারেন না। তার চলাচলের সুবিধার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ির সামনে সিঁড়ি করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আব্বাস প্রামাণিকের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে খুবজীপুর প্রবীণ সেবাকেন্দ্র। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে তাকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক