প্রবাসের কঠিন জীবন পেছনে ফেলে পেঁপে চাষে সফল জুয়েল

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৯ রাত
  • ২৮২৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
কাজের সন্ধানে অবৈধ পথে ভারতে গিয়ে প্রায় তিন বছর পাথর ভাঙার কাজ করেছেন দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ছাতইল গ্রামের জুয়েল ইসলাম (২৮)। কঠোর পরিশ্রমের সেই জীবন পেছনে ফেলে দেশে ফিরে এবার কৃষিতে ভাগ্য গড়ার চেষ্টা করছেন তিনি। গ্রামের আরও দুইজনকে সঙ্গে নিয়ে ৭০ শতক জমি লিজে নিয়ে শুরু করেছেন পেঁপে চাষ। তাঁদের বাগানে ৭০০টির বেশি গাছ থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি হয়েছে। অবশিষ্ট ফল বিক্রি করে আরও পাঁচ লাখ টাকার বেশি আয়ের আশা করছেন তাঁরা।

জুয়েল ইসলামের সঙ্গে এ উদ্যোগে রয়েছেন একই গ্রামের মুসাদ্দেক ইসলাম (২১) ও মমিনুল ইসলাম (৩৮)। তাঁরা দুজনই পেশায় রংমিস্ত্রি। সারা বছর কাজ না থাকায় অনেক সময় কর্মহীন থাকতে হতো তাঁদের। বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে গিয়ে তিনজন মিলে পেঁপে চাষের উদ্যোগ নেন। তাঁদের লক্ষ্য, কৃষির মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করা।

ভারত থেকে ফিরে কৃষিতে উদ্যোগ

জুয়েল জানান, ২০১৯ সালের দিকে দেশে কাজের সুযোগ কম থাকায় তিনি অবৈধ পথে ভারতে যান। সেখানে পাথর ভাঙার কঠিন কাজে জীবিকা নির্বাহ করতে গিয়ে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে তাঁকে। প্রায় তিন বছর পর দেশে ফিরে কৃষিকাজে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে গ্রামের দুইজনকে সঙ্গে নিয়ে সীমিত পুঁজি দিয়ে পেঁপে চাষ শুরু করেন।

১০ মাসের বাগানে মিলছে ফলন

তিন উদ্যোক্তা তাঁদের ৭০ শতক জমিতে শাহী জাতের পেঁপে চাষ করেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাণীগঞ্জ থেকে চারা সংগ্রহ করে জমিতে রোপণ করেন তাঁরা। প্রায় আট মাস পর গাছে ফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে বাগানের বয়স প্রায় ১০ মাস। বাগান থেকে কাঁচা ও পাকা—দুই ধরনের পেঁপেই বিক্রি করছেন তাঁরা।

জুয়েলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পেঁপে চাষে তাঁদের মোট উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন। বাগানে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফল রয়েছে। অবশিষ্ট পেঁপে বিক্রি করে আরও পাঁচ লাখ টাকার বেশি আয়ের প্রত্যাশা করছেন তাঁরা। তবে চূড়ান্ত আয় নির্ভর করবে অবশিষ্ট ফলন ও বাজারদরের ওপর।

কৃষি অফিসের সহযোগিতার আশ্বাস

বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নয়ন কুমার সাহা বলেন, পেঁপে একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় ফসল। সঠিক জাত নির্বাচন, নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এ চাষে ভালো ফলন ও আয় সম্ভব। কাঁচা ও পাকা—দুই অবস্থায় পেঁপে বিক্রি করা যায় বলে কৃষকেরা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ফল বিক্রির সুযোগ পান।

তিনি আরও বলেন, জুয়েল ইসলামের মতো তরুণেরা কৃষিতে উদ্যোগী হলে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদেরও কৃষিকাজে আগ্রহী করে তুলতে পারেন। তাঁকে প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হবে।

জুয়েল বলেন, অবৈধ পথে অন্য দেশে যাওয়ার চেয়ে দেশে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা ভালো। শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাও উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করা উচিত। একা উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব না হলে দুই-তিনজন মিলে কাজ শুরু করা যায়। পরিশ্রম করলে ভালো কিছু করা সম্ভব।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad