এনআইডি সংশোধনের ৬৪ লাখ আবেদন নিষ্পত্তি, ঝুলে আছে ১ লাখ ২৮ হাজার

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৯ দুপুর
  • ১০২২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধনের ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২টি আবেদনের মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি নিষ্পত্তি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ১০টি আবেদন। এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়েছে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি আবেদন।

ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে। বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির পরও নতুন আবেদনের চাপ, অযোগ্য আবেদন বাছাই এবং এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতি প্রতিরোধকে এখন গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন।

মাসে জমা পড়ছে ৮০–৯০ হাজার আবেদন

ইসি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল পর্যন্ত জমা পড়া এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে প্রতি মাসে গড়ে ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ায় কিছু আবেদন অপেক্ষমাণ থাকছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সংশোধনের অযোগ্য আবেদন এবং একই বিষয়ে একাধিক ক্যাটাগরিতে পুনরায় আবেদন করার প্রবণতা। এ পরিস্থিতিতে আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণ, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিষ্পত্তির সুযোগ বৃদ্ধি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম গতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছে ইসি।

‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে অপেক্ষমাণ প্রায় ৬৯ হাজার আবেদন

ইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৬৮ হাজার ২৬৯টি আবেদন। ২০২৫ সালের একই ক্যাটাগরিতে অপেক্ষমাণ রয়েছে আরও ৯৮৩টি। সব মিলিয়ে এ ক্যাটাগরিতে ঝুলে আছে ৬৯ হাজার ২৫২টি আবেদন।

অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে ঢাকা অঞ্চলে ১০ হাজার ৬১৫টি, ফরিদপুরে ৫ হাজার ১৪০টি, খুলনায় ৫ হাজার ৮৭১টি, ময়মনসিংহে ৮ হাজার ৩৩২টি এবং রংপুরে ৪ হাজার ৪৭৭টি আবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে। এ ছাড়া সিলেটে ৬ হাজার ৪৬৯টি, রাজশাহীতে ৬ হাজার ৮৭৫টি, বরিশালে ৪ হাজার ২২৬টি, চট্টগ্রামে ৬ হাজার ৬৮৮টি এবং কুমিল্লায় ১০ হাজার ৫৫৯টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চলে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ফলে অঞ্চলভিত্তিক তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বাসসকে বলেন, আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্ভুলভাবে কাজ করাই প্রধান লক্ষ্য। ভোটার নিবন্ধনের সময় তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা গেলে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের প্রয়োজন কমবে।

তিনি বলেন, অতীতে অযৌক্তিক আবেদন সব ক্ষেত্রে যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। এখন যুক্তিসংগত নয়—এমন আবেদন বাতিল করা হচ্ছে এবং প্রতিটি আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত বছর বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আখতার আহমেদ বলেন, কিছু আবেদনে সংশোধনের প্রয়োজন নেই। আবার বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের কিছু আবেদনে স্থানীয় প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যেও অসংগতি পাওয়া যায়। যাচাই-বাছাই করে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

জন্মতারিখ সংশোধনে বাড়তি নজরদারি

এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষাসনদকে গুরুত্ব দিয়ে তদারকি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে সম্প্রতি আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

১৩ আগস্ট জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাসনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। তবে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

নির্দেশনায় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কাজ পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি দৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি মাসে প্রত্যেক নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার অন্তত তিনটি আবেদন যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। এর মাধ্যমে সিদ্ধান্তের যথার্থতা ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।

বয়সের অসংগতি থাকলে আবেদন বাতিল

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, কিছু আবেদন সংশোধনযোগ্য নয়। বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে কখনো দেখা যায়, বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান মাত্র ১০ বছর। আবার সংশোধনের পর কোনো ব্যক্তির ভোটার হওয়ার সময় বয়স ১৮ বছরের কম ছিল বলে দেখা যায়। এ ধরনের অসংগতি থাকলে আবেদন বাতিল করা হয়।

তিনি জানান, একটি ক্যাটাগরিতে আবেদন বাতিল হওয়ার পর কেউ কেউ অন্য ক্যাটাগরিতে আবার আবেদন করেন। এতে একই ধরনের আবেদনের পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বেশি বলে মনে হতে পারে।

অপেক্ষমাণ আবেদন নিষ্পত্তিতে নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জালিয়াতি ঠেকাতে প্রযুক্তিগত উদ্যোগ

এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতি প্রতিরোধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে। কমিশনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জালিয়াতি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে প্রচারের পাশাপাশি ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করছে কমিশন।

এদিকে, প্রতারক চক্রের প্রলোভনে না পড়তে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করছে এনআইডি বিভাগ। এ বিষয়ে হেল্পডেস্ক থেকেও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম।

প্রতি মাসে বিপুলসংখ্যক নতুন আবেদন জমা পড়ার বাস্তবতায় সংশোধন কার্যক্রমের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি ভোটার নিবন্ধনের সময় তথ্য যাচাই জোরদার, আবেদনকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করাকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad