দেশে বক্ষব্যাধি ও খাদ্যনালির জটিল রোগের আধুনিক সার্জিক্যাল চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে থোরাসিক সার্জারি। রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে সম্প্রতি থোরাসিক সার্জারি সেন্টার চালু করা হয়েছে, যা দেশের এই বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
থোরাসিক সার্জারি সেন্টারটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল আলম। তিনি জানান, থোরাসিক সার্জারি মূলত বুকের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ—ফুসফুস, খাদ্যনালি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশের সার্জিক্যাল চিকিৎসা। হার্ট ছাড়া বুকের ভেতরের বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা এই পদ্ধতিতে করা হয়। প্রয়োজনে ফুসফুসের অংশবিশেষ বা পুরো ফুসফুস অপসারণও করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, উন্নত বিশ্বে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের মতো জটিল চিকিৎসা নিয়মিত হলেও বাংলাদেশে এ ধরনের সার্জারির সুযোগ এখনো সীমিত পর্যায়ে রয়েছে।
চিকিৎসা সুযোগ সীমিত, বাড়ছে ব্যয় ও চাপ
অধ্যাপক কামরুল আলমের মতে, দেশে থোরাসিক সার্জনের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের জন্য এই বিশেষজ্ঞ আছেন মাত্র কয়েক ডজন, যাদের অনেকেই এখনো প্রশিক্ষণ পর্যায়ে রয়েছেন। সরকারি পর্যায়ে মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই সেবা থাকলেও বেড ও অপারেশন সিরিয়ালের সংকট রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক রোগীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, ফলে চিকিৎসা ব্যয় ও সময়—উভয়ই বেড়ে যায়। যেখানে দেশে এই অপারেশনের খরচ গড়ে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা, সেখানে বিদেশে একই চিকিৎসা নিতে খরচ হয় কয়েক গুণ বেশি—ভারতে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং সিঙ্গাপুরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত।
দক্ষ জনবল গড়াই মূল লক্ষ্য
নতুন থোরাসিক সার্জারি সেন্টারে বর্তমানে ৯ জন বিশেষজ্ঞ সার্জন কাজ করছেন বলে জানান তিনি। সবাই তরুণ ও দক্ষ, যারা দেশেই প্রশিক্ষণ নিয়ে এ ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন।
অধ্যাপক কামরুল আলম বলেন, তার মূল লক্ষ্য শুধু চিকিৎসা সেবা দেওয়া নয়, বরং দেশে দক্ষ থোরাসিক সার্জন তৈরি করা। ভবিষ্যতে এই টিমই দেশের থোরাসিক সার্জারির নেতৃত্ব দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তিনি জানান, দীর্ঘদিন সরকারি পর্যায়ে কাজ করার পর এখন বেসরকারি উদ্যোগে এই সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও মানসম্মত থোরাসিক সার্জারি সেবা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশে উচ্চমানের সার্জিক্যাল চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বিদেশমুখী চিকিৎসা নির্ভরতা কমাতে ভূমিকা রাখবে।

মোঃ আল আমিন হোসেন,বার্তা সম্পাদক