দেশের তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে কেবল ভীতি প্রদর্শন বা নিষেধাজ্ঞামূলক প্রচারণা নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
রোববার রাজধানীর আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (আউস্ট) প্রফেসর ড. এম. এইচ. খান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘তরুণদের মাদক প্রতিরোধে প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “মাদক নির্মূলে সবাইকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি মানবিক ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, যুবসমাজকে দক্ষ ও কর্মক্ষম করে তুলতে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচন ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ও আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের জেনারেল সেক্রেটারি ইকবাল মাসুদ। তিনি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, ওভিয়াডো ঘোষণা এবং আচরণ পরিবর্তনের বিজ্ঞানভিত্তিক মডেলের আলোকে বিদ্যালয় ও কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, মাদকাসক্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ তরুণদের শাস্তির পরিবর্তে পুনরুদ্ধারভিত্তিক পুনর্বাসনের আওতায় আনা প্রয়োজন। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিদ্যমান কার্যক্রমের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এবং প্রতিরোধমূলক উদ্যোগের কার্যকারিতা যাচাই সময়ের দাবি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। এ লক্ষ্যে অধিদপ্তর মাঠপর্যায়ের প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের কার্যকারিতা মূল্যায়নে গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ তরুণদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান ডা. এম এ মোহিত কামাল তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিকূল শৈশব অভিজ্ঞতা শনাক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সহ-সভাপতি ড. এস এম খলিলুর রহমান বলেন, মাদক সমস্যা কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই এ খাতে আন্তর্জাতিক মানের কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আউস্টের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল হক। তিনি মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস ও সুস্থ সমাজ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

এইচএম মোকাদ্দেস,নির্বাহী সম্পাদক