হোয়াটসঅ্যাপে সাইবার জাল বিস্তার, নিরাপদ থাকতে জরুরি ৫ সতর্কতা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৩ জুন ২০২৬, ১২:৫৭ দুপুর
  • ১৫৮১১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ এখন সাইবার অপরাধীদের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদান, ছবি ও নথি শেয়ার থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক ব্যবহারের কারণে অ্যাপটিকে কেন্দ্র করে বাড়ছে ফিশিং, তথ্যচুরি ও অ্যাকাউন্ট দখলের ঘটনা।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যবহারকারীদের অসচেতনতার সুযোগ নিয়েই অধিকাংশ হামলা সংঘটিত হচ্ছে। তাই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করুন

হোয়াটসঅ্যাপের অন্যতম কার্যকর নিরাপত্তা ফিচার হলো ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’। এ সুবিধা চালু করলে ব্যবহারকারীকে একটি ছয় অঙ্কের পিন নির্ধারণ করতে হয়, যা নতুন ডিভাইসে অ্যাকাউন্ট লগইনের সময় প্রয়োজন হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিম সোয়াপিং বা এসএমএস কোড চুরি হলেও এই অতিরিক্ত পিন ছাড়া অপরাধীরা অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারে না। আর্থিক বা পেশাগত কাজে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ফিশিং লিংক থেকে দূরে থাকুন

হোয়াটসঅ্যাপে সংঘটিত অধিকাংশ সাইবার হামলার সূচনা হয় ভুয়া বার্তা বা ফিশিং লিংকের মাধ্যমে। প্রতারকরা পরিচিত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের ছদ্মবেশে বার্তা পাঠিয়ে ব্যবহারকারীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।

এসব বার্তায় ‘উপহার’, ‘রিফান্ড’, ‘অ্যাকাউন্ট যাচাই’ বা ‘নিরাপত্তা আপডেট’-এর মতো প্রলোভন দেখিয়ে লিংক পাঠানো হয়। লিংকে প্রবেশ করলে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হতে পারে অথবা ডিভাইসে ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্রবেশ করতে পারে।

ভেরিফিকেশন কোড কারও সঙ্গে শেয়ার নয়

সাইবার অপরাধীরা প্রায়ই বিভিন্ন কৌশলে ব্যবহারকারীদের এসএমএসে পাঠানো ছয় অঙ্কের ভেরিফিকেশন কোড সংগ্রহের চেষ্টা করে। অনেক সময় তারা পরিচিতজন সেজে দাবি করে যে ভুলবশত কোডটি আপনার নম্বরে চলে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, এই কোড অন্য কাউকে জানানো মানে নিজের অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে তুলে দেওয়া। হোয়াটসঅ্যাপ কখনোই ব্যবহারকারীর কাছে চ্যাট বা ই-মেইলের মাধ্যমে এ ধরনের কোড চায় না।

‘লিংকড ডিভাইস’ নিয়মিত পরীক্ষা করুন

হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব ও মাল্টি-ডিভাইস সুবিধা ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কোনো অপরিচিত ডিভাইস যদি আপনার অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে সেখানে আপনার বার্তা দেখা সম্ভব।

তাই অ্যাপের ‘লিংকড ডিভাইসেস’ অপশনে গিয়ে নিয়মিত সংযুক্ত ডিভাইসের তালিকা পরীক্ষা করা উচিত। সন্দেহজনক কোনো ডিভাইস পাওয়া গেলে দ্রুত সেটি লগআউট করে দিতে হবে।

সফটওয়্যার আপডেট অবহেলা নয়

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো সংস্করণের অ্যাপ ও অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ নিরাপত্তা দুর্বলতাগুলোকে কাজে লাগিয়েই হ্যাকাররা হামলা চালায়।

নিয়মিত আপডেটের মাধ্যমে এসব ত্রুটি সংশোধন করা হয়। তাই হোয়াটসঅ্যাপ ও স্মার্টফোনে স্বয়ংক্রিয় আপডেট ব্যবস্থা চালু রাখা নিরাপদ ব্যবহারের অন্যতম শর্ত।

সচেতনতাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও সাইবার নিরাপত্তার সবচেয়ে দুর্বল জায়গা মানুষের অসতর্কতা। বর্তমানে সাইবার অপরাধীরা প্রযুক্তিগত দুর্বলতার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

তাই সন্দেহজনক বার্তা এড়িয়ে চলা, নিরাপত্তা ফিচারগুলো সক্রিয় রাখা এবং ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকলে হোয়াটসঅ্যাপভিত্তিক অধিকাংশ সাইবার ঝুঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব। ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতার বিকল্প নেই।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad