‘তাজউদ্দিনের অনুরোধেও স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি শেখ মুজিব’—স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের বক্তব্য

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৮ দুপুর
  • ১৬৩৩০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান শুরুর আগে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দিন আহমেদের অনুরোধ সত্ত্বেও শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

শনিবার রাজধানীতে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্পিকার বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান ভাঙার পক্ষে ছিলেন না এবং নিজেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে দেখতে চাননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাজউদ্দিন আহমেদ তাকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার অনুরোধ করলেও শেখ মুজিব তাতে সম্মতি দেননি।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি দাবি করেন, সে সময় মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা দেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিল।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না; এটি ছিল সমগ্র বাঙালি জাতির মুক্তির সংগ্রাম। তার অভিযোগ, স্বাধীনতার পর ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় বিকৃত করে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের কৃতিত্ব নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছে।

রাজনীতিতে কৃতিত্বের প্রশ্ন তুলে স্পিকার বলেন, অনেক সময় রাজনৈতিক নেতারা অন্যের অবদানকে আড়াল করে নিজেদের কৃতিত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন, যা ইতিহাসের জন্য শুভ নয়।

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টটির মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। পাকিস্তানি বাহিনীর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিদ্রোহ করে এবং জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়। তার মতে, এই প্রতিরোধই পরবর্তীতে নয় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি তৈরি করে।

সেনাবাহিনীতে যোগদানের স্মৃতিচারণ করে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বলেন, ফুটবলের প্রতি আগ্রহ থেকেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের উৎসাহে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন।

অনুষ্ঠানে তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রধান সংগঠক মেজর আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকারী ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের অবদানের কথাও স্মরণ করেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও সৈনিকদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad