তরুণদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো)। এর অংশ হিসেবে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ডিজিটাল যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য প্রচারের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
ইউনেস্কোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণরা তাদের জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় অনলাইনে কাটায়। ফলে তাদের কাছে স্বাস্থ্যবিষয়ক সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া, সচেতনতা তৈরি এবং ইতিবাচক আচরণে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ লক্ষ্যে গত ১২ থেকে ১৪ আগস্ট তানজানিয়ায় তিন দিনের একটি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে দেশটির ১৩টি উচ্চ ও তৃতীয় পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সহপাঠী শিক্ষকরা অংশ নেন। ইউনেস্কোর সঙ্গে বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠান ও তানজানিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে।
প্রশিক্ষণে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, এইচআইভি এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক, আকর্ষণীয় ও তরুণবান্ধব ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির কৌশল শেখানো হয়। একই সঙ্গে অনলাইনে দায়িত্বশীল যোগাযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং দর্শক ও পাঠকদের আগ্রহ বুঝে কার্যকর কনটেন্ট তৈরির বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
ইউনেস্কো জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে তরুণদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক স্বাস্থ্যবার্তা পৌঁছে দিতে কাজ করবেন। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের সচেতন ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার লক্ষ্য রয়েছে।
ইউনেস্কোর মতে, তরুণরা নিয়মিত ব্যবহার করে এমন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো পরিকল্পিত ও দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগানো গেলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামগ্রিক সুস্থতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক