পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করার পর শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে লাশ শনাক্ত করেন স্বজনেরা।
নিহতের ছেলে হাসান জানান, তাদের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামে। বর্তমানে তারা গাজীপুরের কাশিমপুরের করলাপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। তার বাবা আগে একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রায় নয় মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন তিনি।
হাসান বলেন, তার ছোট বোন শারমিনের বিয়ে ঠিক হয়েছে। পরিবারের ঋণও ছিল। এ কারণে প্রায় চার মাস আগে পরিবারের সদস্যদের গাজীপুরে রেখে একা গ্রামের বাড়িতে যান ইসমাইল। পরে বসতভিটার ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। ওই টাকা থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করেন এবং বাড়িতে ঘর নির্মাণ করেন। অবশিষ্ট প্রায় ৫ লাখ টাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় ফেরার কথা ছিল তার।
পরিবারের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতে ইসমাইলের শেষ কথা হয়। তিনি রাত ৩টার বাসে জামালপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাকে নিতে আশুলিয়ার জিরানী বাসস্ট্যান্ডে যান ছেলে হাসান। সেখানে গিয়ে বাবার মুঠোফোনে কল করলে সেটি বন্ধ পান তিনি। পরে বাসায় ফিরে যান। ওই দিন দুপুরে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার বাবার লাশ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ইসমাইলের ভাতিজা মো. মোকাদ্দেস বলেন, জামালপুর থেকে গাজীপুরে যাওয়ার কথা থাকলেও ইসমাইলের ঢাকায় আসার কথা ছিল না। পরিবারের ধারণা, পথে কোনো ছিনতাইকারী বা চক্র তার কাছে টাকা থাকার বিষয়টি জানতে পেরে তাকে অপহরণ করে। পরে হত্যা করে টাকা নিয়ে লাশ এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে।
এর আগে শুক্রবার সকালে বনানীতে এক্সপ্রেসওয়ের ওপর লাশটি পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। পরে ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে। উদ্ধারের সময় ইসমাইলের মুখে স্কচটেপ লাগানো ছিল।
তবে লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল, ইসমাইল পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন। তার পরনে ছিল সিএনজিচালকদের ইউনিফর্মের মতো নীল রঙের শার্ট ও লুঙ্গি।
বনানী থানার এসআই নজরুল ইসলাম তালুকদার জানান, ইসমাইলকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত শেষে ইসমাইলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)