শনিবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। সভা পরিচালনা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তারেক রহমান বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় ভঙ্গুর অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সমস্যা পেয়েছে। এর মধ্যে একটি যুদ্ধ পরিস্থিতিও সামাল দিতে হয়েছে। এসব সংকটের পাশাপাশি বর্তমানে জ্বালানি সংকটের চাপও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সংকট সামাল দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিশ্বে নতুন কোনো সংকট তৈরি হলে যাতে বাংলাদেশের মানুষ জ্বালানি সংকটে না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য শুধু বর্তমান সংকট মোকাবিলা নয়, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্যও দেশকে প্রস্তুত রাখা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ বিশ্বের প্রায় ৬৫টি দেশে জ্বালানির দাম বেড়েছে। সরকার দীর্ঘদিন জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব না হওয়ায় কিছুটা দাম বাড়াতে হয়েছে।
তবে জ্বালানির দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সেদিকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, জনগণের ওপর চাপ কমাতে সাম্প্রতিক বাজেটে প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর বাড়ানো হয়নি। বরং কয়েকটি পণ্যের কর কমানো হয়েছে।
চলমান সংকটে সাধারণ মানুষ ও শিল্পকারখানার মালিকদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার তাদের কষ্ট উপলব্ধি করছে। এ দুর্ভোগের জন্য দেশবাসীর কাছে দল ও সরকারের পক্ষ থেকে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব থেকে বাংলাদেশকে সুরক্ষিত রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক