রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ রংপুরের বিশেষ জজ আদালত এ মামলায় সাত জেএমবি সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই রায়ে ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশও দেওয়া হয়েছিল।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন—জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী (৩৩), সদস্য ইছাহাক আলী (৩৪), লিটন মিয়া ওরফে রফিক (৩২), সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাহুল (৩০), সরওয়ার হোসেন সাবু ওরফে মিজান (৩০), উত্তরাঞ্চলের কমান্ডার বিজয় ওরফে আলী ওরফে দরজি (৩০) এবং চান্দু মিয়া (২০)।
তাদের মধ্যে হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। বাকি পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন—আবু সাঈদ (৩০), তৌফিকুল ইসলাম সবুজ (৩৫), সাদাত ওরফে রতন মিয়া (২৩), জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব গান্ধী (২৬), বাবুল আখতার ওরফে বাবুল মাস্টার (৩৫) ও রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন (২৫)।
মামলার ১৩ আসামির মধ্যে চান্দু মিয়া ও রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন পলাতক রয়েছেন।
যেভাবে হত্যা করা হয়মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে বাড়ি ফেরার পথে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড়ে রহমত আলীকে (৬০) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। তিনি স্থানীয় একটি মাজারের খাদেম ছিলেন।
পরদিন ১১ নভেম্বর নিহতের ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জন জেএমবি সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে মামলার দুই আসামি—পঞ্চগড়ের নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক হাসান ও কুড়িগ্রামের সাদ্দাম হোসেন—পরে পৃথক ঘটনায় নিহত হন। নজরুল ইসলাম ২০১৬ সালের ১ আগস্ট রাতে রাজশাহীতে এবং সাদ্দাম হোসেন ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ঢাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।
পরে শুনানি শেষে নিহত দুই আসামিকে বাদ দিয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিচারিক কার্যক্রম শেষে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে খালাস দেন রংপুরের বিশেষ জজ আদালত। সেই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে শুনানি শেষে রোববার দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল ও পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হলো।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক