অক্টোবরেই ডেঙ্গুর পিক, এখনই প্রতিরোধ জোরদারের আহ্বান

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২২ বিকাল
  • ২৩৩৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। এ সময়ে ডেঙ্গু সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এখন থেকেই দেশজুড়ে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের জেনারেল ওসমানী গেটে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত তিন-চার বছরের তথ্য-উপাত্ত ও এপিডেমিওলজিক্যাল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৃষ্টির ধরন, উষ্ণ তাপমাত্রা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সাধারণত ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। ফলে এখনই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে আগামী মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে পারে।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটস, গার্লস গাইডসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম শুরু করা হবে।

বিশেষ করে ঢাকা শহরের অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে মশক নিধনকর্মীদের প্রবেশে নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে অ্যাপার্টমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও বাসিন্দাদের নিজ নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু পুলিশিং বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়; নাগরিকদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করাই বেশি কার্যকর। ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ দায়িত্বে সচেতন হতে হবে।

হাসপাতালের প্রস্তুতি সম্পর্কে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে কোথাও শয্যাসংকট নেই। তবে সম্ভাব্য রোগীর চাপ মোকাবিলায় অতিরিক্ত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সোমবার দেশের সব সিভিল সার্জনের সঙ্গে জুম বৈঠক করে অতিরিক্ত শয্যা প্রস্তুত রাখা, পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হবে।

ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার কমাতে সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে ডেঙ্গুর স্ট্যান্ডার্ড ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। হাসপাতালের ভেতরে সংক্রমণ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত মশারি সরবরাহ এবং হাসপাতালের আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

ডেঙ্গুতে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রতিটি মৃত্যুই সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এবার সম্ভাব্য ঝুঁকির অন্তত এক মাস আগেই সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত দুই মাস ধরে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

এ সময় আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা ও রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad