ওসমান হাদির বক্তব্য সংকলন ‘বারুদমাখা কথামালা’ বইয়ের সম্পাদকীয়তে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন তাদের পথচলার পাথেয় ও সাহসের বাতিঘর। দেশকে ‘কালচারাল ফ্যাসিবাদ’ থেকে মুক্ত করা, প্রান্তিক বাঙালি মুসলমানদের মূলধারায় নিয়ে আসা এবং জুলাইয়ের বয়ানকে সাংস্কৃতিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই হাদির দীর্ঘ সংগ্রাম ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্পাদকীয়তে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর জুলাইয়ের ঘটনাকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক বয়ান নির্মাণের লড়াই শুরু হয়। ওই সময়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রত্যাশিত অংশগ্রহণ দেখা যায়নি। তবে ওসমান হাদি এককভাবে সেই লড়াই চালিয়ে গেছেন। মুসাদ্দিক আলীর ভাষায়, তিনি ছিলেন ‘নিঃসঙ্গ শেরপা’—একলা পথের পথিকের মতোই এগিয়ে গেছেন।
মুসাদ্দিক আলী আরও বলেন, জুলাইকে সাংস্কৃতিকভাবে শক্তিশালী করা এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আধিপত্যবাদী প্রতিষ্ঠানের বিরোধিতা করে নতুন সাংস্কৃতিক বয়ান নির্মাণে ওসমান হাদি যে ভূমিকা রেখেছেন, তা তার বিরোধীদের সহ্য হয়নি। এ কারণে তাকে হত্যা করে তার অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ওসমান হাদির সহযোদ্ধারা যারা এখনো বেঁচে আছেন, তাদের দায়িত্ব হলো তার অসম্পূর্ণ সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে পূর্ণতা দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই হাদির চিন্তা, বক্তব্য ও বয়ানকে সংরক্ষণ করা এবং ভবিষ্যৎ পথচলার নির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করা জরুরি।
প্রতিবেদন সূত্র: আমার দেশ অনলাইন, প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক