মাইক্রোসফটের ‘অ্যাজুর’ ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম ইসরাইলি সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়েছে—এমন তথ্য এর আগে একাধিক অনুসন্ধানেও উঠে এসেছে। বিশেষ করে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও দ্রুত ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
যুদ্ধের প্রথম বছরেই সম্পর্ক গভীরগাজা যুদ্ধের প্রথম বছরে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মাইক্রোসফটের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও গভীর হয়। ওই সময় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ক্লাউড ও এআই-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নেয়।
মাইক্রোসফটের প্রযুক্তি কীভাবে ইসরাইলি সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে, তা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোম্পানির কয়েকজন কর্মী ইসরাইলকে প্রযুক্তি সরবরাহ বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ করেন। এ ঘটনায় কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, যুদ্ধের সময় ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই প্রযুক্তি শুধু তথ্য সংরক্ষণেই ব্যবহৃত হচ্ছে না; সামরিক গোয়েন্দা কার্যক্রম, নজরদারি এবং লক্ষ্য নির্ধারণের মতো কাজেও এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এ কারণে যুদ্ধকালীন সময়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে।
তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ নিয়ে উদ্বেগইসরাইলি সামরিক বাহিনী ফিলিস্তিনিদের বিপুলসংখ্যক ফোনকল ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণের জন্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব তথ্য সামরিক অভিযানে কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা নিয়ে অধিকারকর্মীরা গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তবে মাইক্রোসফট ইসরাইলকে প্রযুক্তি সরবরাহের বিষয়টি অস্বীকার করেনি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে বলা হয়েছে, তাদের প্রযুক্তির অপব্যবহারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট সেবা আন্তর্জাতিক আইন বা কোম্পানির নীতিমালা লঙ্ঘন করে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রযুক্তি কোম্পানির দায় কতটাইসরাইলের সঙ্গে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক এরই মধ্যে আরও জোরালো হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সরাসরি অস্ত্র তৈরি না করলেও তার ক্লাউড, এআই ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো যদি সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়, তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানের দায় কতটা—এ বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত এবং ব্যাপক অবকাঠামো ধ্বংসের প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
ফলে মাইক্রোসফটের প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের চুক্তির তথ্য কেবল একটি ব্যবসায়িক চুক্তির বিষয় নয়; বরং যুদ্ধ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং করপোরেট দায়বদ্ধতার সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন সামনে এনেছে।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স