শনিবার চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে লং মার্চের সমাপনী সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রামের মেয়রকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মেয়র যতদিন ইচ্ছা ক্ষমতায় থাকার কথা শুনেছেন। এটিকে প্রশাসন নয়, স্বৈরশাসনের উদাহরণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর পরই শনিবার রাত ১টার দিকে কানাডা থেকে ফেসবুক লাইভে এসে জামায়াত আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা করেন ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, তাঁকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ বলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আমলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে মেয়র হিসেবে রেজাউল করিমের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিকে কার্যত বৈধতা দেওয়া হয়েছে।
শাহাদাত বলেন, ‘‘আমি আদালতের রায়ে বৈধ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি শপথ নিয়েছি।’’ তাঁর দাবি, আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, শপথ গ্রহণের পর থেকে তাঁর মেয়াদ স্বাভাবিকভাবে ২০২৯ সাল পর্যন্ত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছরে তিনি ১১০টি মামলার আসামি হয়েছেন। তাঁর করা মামলার রায় ফ্যাসিবাদী শাসনকে চ্যালেঞ্জ করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরই তিনি আদালতে মামলা করেছিলেন বলে জানান।
শাহাদাত বলেন, বৃহত্তর জনস্বার্থে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তিনিও নির্বাচন চান। তাঁর ভাষায়, সবারই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে এবং তিনিও নিজের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চান।
জামায়াত আমিরের বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে চসিক মেয়র বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একতরফাভাবে তাদের প্রার্থী রেজাউল করিমকে মেয়র ঘোষণা করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, শফিকুর রহমানের বক্তব্যের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্তকে বৈধতা দেওয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
এর আগে লালদিঘি ময়দানের সমাবেশে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার স্বৈরাচার—এর বড় উদাহরণ চট্টগ্রাম। সরকার বিভিন্ন সংস্থায় দলীয় লোক নিয়োগ দিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তাঁদের ঘোষিত ৩১ দফায় দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
জামায়াত আমিরের বক্তব্যের পর শনিবার রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্নজন পক্ষে-বিপক্ষে মতামত দেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক