নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে সমন্বিত রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের দাবি

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৮ বিকাল
  • ৩৮৫২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
‘আমার সন্তান কোথায়?’—এই প্রশ্ন তুলে নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত খুঁজে বের করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ঘটনাগুলো পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আমার সন্তান কোথায়?’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের উদ্যোগে এবং জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করা হয়।

এতে জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মো. সাদাত রহমানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রায় ৪০টি নিখোঁজ শিশুর পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। তারা জানান, অনেক শিশু মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর ধরে নিখোঁজ। সন্তানদের সন্ধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও অনেক পরিবার কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে স্বজনরা বলেন, দীর্ঘদিন সন্তানদের সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধারের পাশাপাশি অমীমাংসিত ঘটনাগুলোর পুনঃতদন্ত ও অগ্রগতি পর্যালোচনা, শিশু নিখোঁজ ও পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

‘মুন অ্যালার্ট’ ও হেল্পলাইন

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে সিলেটে শিশু মুনতাহা নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের পর নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে অ্যাম্বার অ্যালার্ট ব্যবস্থা চালুর দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের সহযোগিতায় ‘মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন’ বা ‘মুন অ্যালার্ট’ এবং টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯ চালু করা হয়।

আয়োজকদের দাবি, বর্তমানে এই উদ্যোগ দেশব্যাপী শিশু নিখোঁজ প্রতিরোধ ও উদ্ধারে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।

জুলাই পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭১৭ জিডি

সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে শিশু নিখোঁজ-সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ হাজার ৫০০টিতে। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি দায়ের হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ২ হাজার ৩৮ জন শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

বক্তারা বলেন, এসব পরিসংখ্যান সাম্প্রতিক কয়েক বছরের চিত্র তুলে ধরে। দেশে দীর্ঘদিন ধরে শিশু নিখোঁজ, অপহরণ ও পাচারের ঘটনা ঘটলেও অনেক ঘটনার এখনো সুরাহা হয়নি। এ অবস্থায় নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে রাষ্ট্রীয়ভাবে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি

সংবাদ সম্মেলন শেষে নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানানো হয়। তবে স্মারকলিপি দেওয়ার সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

স্মারকলিপিতে নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত মামলা পুনরায় পর্যালোচনা ও তদন্তের আওতায় আনা, শিশু নিখোঁজ ও পাচার প্রতিরোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে বিশেষ যৌথ অভিযান এবং শিশু সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের দাবি জানানো হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad