বিএসইসির ১২৭ নিয়োগে ছয় অনিয়মের প্রমাণ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৯ দুপুর
  • ৬৬০৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১২৭ জনের জনবল নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। নিয়োগে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র না নেওয়া, ত্রুটিপূর্ণ বাছাই কমিটি, লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র সংরক্ষণে ব্যর্থতা এবং করোনাকালীন বিধিনিষেধের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়াসহ ছয় ধরনের অনিয়ম চিহ্নিত করেছে কমিটি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের ৮ জুলাই প্রকাশিত যুগান্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে তদন্তের পর এসব তথ্য পাওয়া যায়।

তদন্ত কমিটি গত বছরের ২৪ এপ্রিল সর্বসম্মতভাবে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। পরে ২৯ এপ্রিল প্রতিবেদনটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও বিএসইসিতে পাঠানো হয়। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে আসার পরও এর কার্যকর অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে তদন্ত

২০২৪ সালের ৮ জুলাই ‘বিএসইসির নিয়োগ পদোন্নতি পদায়ন বেপরোয়া জালিয়াতি স্বেচ্ছাচারিতা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুগান্তর। প্রতিবেদনে করোনাকালীন সময়ে বিএসইসিতে ১২৭ জনের নিয়োগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

এরপর মো. আরিফ চৌধুরী নামে এক আইনজীবী রিট পিটিশনের মাধ্যমে বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে আনেন। রিটের নম্বর ১০৮৩২/২০২৪। শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি একেএম আসাদুউজ্জামান ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুবুল ইসলামের বেঞ্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন।

পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় আদালত অবমাননার অভিযোগে আরেকটি রিট করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

নিয়োগের প্রক্রিয়ায় যেসব অনিয়ম

তদন্ত প্রতিবেদনে ২০২১ সালে ৯ম থেকে ২০তম গ্রেডের ১৩ ক্যাটাগরিতে ১২৭টি পদে নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২১ সালের ২৫ মার্চ বিএসইসির সহকারী পরিচালক মাহমুদা শিরিনের স্বাক্ষরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বছরের ১৯ জুন থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৩২ হাজার ৪২০ জন আবেদনকারীর মধ্যে ১৯ হাজার ৬০৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। উপস্থিতির হার ছিল ৬০ দশমিক ৪৭ শতাংশ। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ২ হাজার ৬৮৫ জন। তাঁদের মধ্যে ৯৪০ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য কার্ড দেওয়া হয়।

১০ আগস্ট থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪৭টি বোর্ডে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এসব বোর্ডের সভাপতিত্ব করেন তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম ও কমিশনার ড. শামসুদ্দীন আহমেদসহ কমিশনের সদস্যরা।

তদন্ত প্রতিবেদনে প্রধান ছয়টি অনিয়ম হলো—

১. ছাড়পত্র ছাড়াই নিয়োগ: সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী বিএসইসির মতো সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব খাতের সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদ পূরণে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র প্রয়োজন। কিন্তু ওই নিয়োগে কোনো ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি এবং মন্ত্রণালয়কেও বিষয়টি অবহিত করা হয়নি।

২. ত্রুটিপূর্ণ বাছাই কমিটি: নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রায় তিন সপ্তাহ পর ১৫ এপ্রিল ২০২১ বিএসইসির ৭৭০তম কমিশন সভায় বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ১০ম গ্রেডের একজন কর্মচারীকে সদস্যসচিব করা হয়, যদিও নিয়োগে ৯ম গ্রেডের পদও ছিল। কমিটিতে বাইরের কোনো সদস্যও রাখা হয়নি।

৩. বাছাই কমিটির কার্যকর ভূমিকা না থাকা: নিয়োগ পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদকে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো চুক্তিপত্র ছিল না। আবেদন গ্রহণ থেকে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রস্তুত পর্যন্ত কার্যক্রমে বাছাই কমিটির কার্যকর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার এখতিয়ার বাছাই কমিটির থাকলেও কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ৪৭টি ভাইভা বোর্ডের সভাপতিত্ব করেন। তদন্ত কমিটি বিষয়টিকে স্বার্থের সংঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad