বুধবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলার আসামিরা
সাকিব আল হাসান ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক আবুল খায়ের (হিরু), তাঁর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির ও তানভীর নিজাম।
২০২৪ সালে মামলা
২০২৪ সালের ১৭ জুন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ ধারা; দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ১২০(বি) ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবে পরিচালিত হিসাবে অবৈধ সিরিজ লেনদেন, প্রতারণামূলক সক্রিয় ট্রেডিং, জুয়া ও জল্পনাকল্পনার মাধ্যমে শেয়ারবাজারে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে কারসাজি করেন। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিপুল অর্থ হারান।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়ায় মোট ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করা হয়, যা মামলায় ‘অপরাধলব্ধ অর্থ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হিরুর বিরুদ্ধে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ
মামলার প্রধান অভিযুক্ত আবুল খায়ের (হিরু) তাঁর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের সহায়তায় ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকা অর্থের উৎস গোপন করে বিভিন্ন খাতে স্থানান্তর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া হিরুর নামে থাকা ১৭টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সাকিবের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ
মামলার নথি অনুযায়ী, আবুল খায়ের (হিরু) শেয়ারবাজারে কারসাজি করেছেন—এমন অভিযোগ থাকা প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও সোনালী পেপারস লিমিটেডের শেয়ারে সাকিব আল হাসান বিনিয়োগ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে সাকিব শেয়ারবাজারে কারসাজিতে সরাসরি সহায়তা করেন এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা ‘রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইন’-এর নামে শেয়ারবাজার থেকে আত্মসাৎ করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগোবে।
তথ্যসূত্র: বাসস/যুগান্তর, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক