শিক্ষক-যোগাযোগ সংকটে চরাঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৩ দুপুর
  • ৭৭৬৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের শিবালয়, দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট, যাতায়াত সমস্যা, নদীভাঙন, আবাসন সংকট, অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, মোবাইল নেটওয়ার্কের দুরবস্থা ও অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। বর্ষায় নদীপথনির্ভর যোগাযোগ আরও কঠিন হয়ে পড়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় চরাঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।


শিবালয়ের আলোকদিয়া, মধ্যনগর, গঙ্গাপ্রসাদ ও ত্রিশুন্ডি; দৌলতপুরের বাগুটিয়া, চরকাটারি ও বাচামারা এবং হরিরামপুরের পদ্মাবেষ্টিত আজিমনগর, লেছড়াগঞ্জ ও সুতালড়ি এলাকাকে দুর্গম চরাঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


তিন উপজেলায় মোট ৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে হরিরামপুরে ১৩টি, শিবালয়ে পাঁচটি এবং দৌলতপুরে ৩৯টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ২৩৫ জন। এর মধ্যে হরিরামপুরে ৪৯, শিবালয়ে ১৭ এবং দৌলতপুরে ১৬৯ জন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সুতালড়ি রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বর্তমানে নেই। অন্য বিদ্যালয়গুলোর মধ্যেও শিক্ষক সংকট রয়েছে। আটটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এ ছাড়া বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে একাধিক সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।


### নৌপথে ভোগান্তি, বাড়ছে ব্যয়


চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকটের অন্যতম কারণ দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা। পদ্মার ভাঙন ও নৌযাননির্ভর যোগাযোগের কারণে বর্ষায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অনেক শিক্ষককে প্রতিদিন সমতল এলাকা থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌযানে নদী পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়।


নৌযান সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া এবং কখনো নৌযান মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে শিক্ষকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে যেতে শিক্ষকদের ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে হয়। সড়ক ও নৌপথের দুরবস্থার কারণে একদিকে যেতে সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা।


এতে শিক্ষকদের সময় ও অর্থের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, মাসিক বেতনের উল্লেখযোগ্য অংশই যাতায়াত ব্যয়ে চলে যায়।


এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরমান আলী বলেন, ‘যাতায়াতে প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা সময় চলে যায়। খরচ হয় প্রায় ৩০০ টাকা। বর্ষায় সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যায়। কিন্তু এ জন্য আমাদের কোনো ভাতা নেই।’


শিক্ষকদের অভিযোগ, দুর্গম চরাঞ্চলে দায়িত্ব পালনের জন্য বিশেষ যাতায়াত সুবিধা বা দুর্গম এলাকার ভাতা না থাকায় তাঁদের বাড়তি আর্থিক চাপ বহন করতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় নৌপথ ও দুর্গম সড়ক পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে গিয়ে শারীরিকভাবেও ক্লান্ত হয়ে পড়তে হয়।


### শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ


শুধু শিক্ষক সংকট ও যোগাযোগ সমস্যাই নয়, চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। নদী পারাপার, যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থা এবং বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে পারে না।


দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা থাকলেও সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উদ্যোগ না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।


মানিকগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গকুল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, সমস্যাগুলো সমাধানে পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে। এটি সম্পন্ন হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। বাস্তবসম্মত একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।


জেলা প্রশাসক নাজমুন সুলতানা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষকদের কর্মস্থলে থেকে দায়িত্ব পালনের বিকল্প নেই। চরাঞ্চলে শিক্ষকদের আবাসনব্যবস্থা করার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad