বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
বাস্তবতা বিবেচনায় সময় নির্ধারণইসি সচিব বলেন, ইউপি নির্বাচনের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসএসসি পরীক্ষা, রমজান, বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব ও জাতীয় দিবসসহ স্থানীয় পর্যায়ের সামাজিক বাস্তবতাগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে। সব বিষয় পর্যালোচনা করে কমিশন সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেবে।
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, আগামী জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার বিষয়ে কমিশন চিন্তা করছে। ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা শেষ হলে জানুয়ারি থেকে নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার বাসসকে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে ইউপি নির্বাচন শুরুর প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। রমজানের আগে তিনটি ধাপে প্রায় দুই হাজার ইউপিতে নির্বাচন করা সম্ভব হতে পারে। রমজানের পর এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী ধাপের নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
প্রশিক্ষণে ইউএনডিপির সহযোগিতাইসি সচিব জানান, ইউএনডিপির ‘ব্যালট’ প্রকল্পের আওতায় ইসি সচিবালয়, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশিক্ষণের একটি প্রস্তাব নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।
অপতথ্য, ভুল তথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের সক্ষমতা বাড়ানোই এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য। এটি কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রম নয়; বরং ধারাবাহিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ। প্রস্তাবটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তী আলোচনায় প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু ও অংশগ্রহণকারীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নিইসি সচিব বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় নির্বাচনের সময়সূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাব এসেছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে কমিশন এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনগণের প্রত্যাশার একটি উচ্চ মানদণ্ড তৈরি হয়েছে। সেই মান বজায় রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তা আরও উন্নত করার লক্ষ্যেই কমিশন কাজ করছে।
প্রস্তুতি চলছেআখতার আহমেদ জানান, ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র ও প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম প্রস্তুতের পাশাপাশি স্থানীয় পরিস্থিতি ও পরিবেশও মূল্যায়ন করা হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রায় পাঁচ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। বিপুলসংখ্যক ইউপিতে ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই কমিশন সময়সূচি ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা করছে।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক