রোববার (১১ অক্টোবর) সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি জানিয়েছেন।
জনগণের অর্থ ব্যয়ে সতর্ক থাকার আহ্বানসভায় মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে এবং সেগুলো বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব লক্ষ্য অর্জনে সরকার বাজেট বরাদ্দ দেবে। তবে বরাদ্দের অর্থ জনগণের—এ বিষয়টি মাথায় রেখে প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থ ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে মনোযোগী হতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দের অর্থ যেন অপচয় না হয় এবং তা নির্ধারিত উদ্দেশ্য পূরণে কাজে লাগে, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সরকারি দায়িত্ব মানুষের সেবার সুযোগসরকারি দায়িত্ব পালনের সুযোগকে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার বিশেষ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরা একটি বিশেষ অবস্থানে রয়েছেন। এই সুযোগ দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো উচিত।
তারেক রহমান বলেন, “আল্লাহ তাআলা আমাদের দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করার একটা সুযোগ দিয়েছেন।” যার হাতে যতটুকু দায়িত্ব ও কাজ করার সুযোগ রয়েছে, তা আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পন্ন করার চেষ্টা থাকতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দায়িত্ব পালনের সুযোগ সব সময় থাকে না। তাই যে যখন যে দায়িত্বে রয়েছেন, সেই সময়টুকু দেশ ও মানুষের উপকারে কাজে লাগাতে হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে জনকল্যাণে অবদান রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন, আমরা সবাই চেষ্টা করি, যার হাতে যত দিন সুযোগ আছে, সেই সুযোগটা যেন মানুষ ও দেশের জন্য ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি।”
মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর তাগিদসভায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মকর্তারা বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে যে অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ অর্জন করেন, তা সরকারের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ কারণে কর্মকর্তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও মতামত খোলামেলাভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ভবিষ্যতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আবারও আলোচনা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তী সভাগুলোতে কর্মকর্তারা আরও সক্রিয়ভাবে মতামত দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক