ভারতের তরুণদের আন্দোলনে নাহিদের সংহতি, দক্ষিণ এশিয়াকে কর্তৃত্ববাদমুক্ত করার আহ্বান

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৯ বিকাল
  • ৩০৬৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ভারতের জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে দেশটির গণতন্ত্রকামী জনগণের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি দক্ষিণ এশিয়াকে কর্তৃত্ববাদ, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও বিভাজন থেকে মুক্ত করে গণতন্ত্র, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলনরত ভারতের তরুণদের প্রতি তাঁদের দৃঢ় সংহতি রয়েছে। ইন্টারনেট বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ও নেতাদের আটক করাকে মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র-নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়ন গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশের জুলাই প্রজন্ম ভারতের তরুণদের পাশে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই লড়াই আপনাদের একার নয়। ঢাকা থেকে আমরাও আপনাদের পাশে আছি।’

ক্ষমতার জবাবদিহি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবিতে দুই দেশের তরুণদের মধ্যে অভিন্ন অবস্থান রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে ভারতের আন্দোলনের তুলনা

বিবৃতিতে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরবর্তী সময়ে তৎকালীন সরকারের দীর্ঘ শাসনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ওই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষ নিহত হন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সে সময় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারান বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের সময় ভারতের শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীনচেতা ব্যক্তিরা যে সংহতি জানিয়েছিলেন, তা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন নাহিদ ইসলাম।

ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি শাহীনবাগের নারী সমাজ এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের মতো ভারতের আন্দোলনেও নারীরা সামনের সারিতে রয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা

নাহিদ ইসলাম বলেন, হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন, ফ্যাসিবাদ কিংবা যেকোনো ধরনের ধর্মীয় আধিপত্যবাদ দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। কর্তৃত্ববাদ, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা প্রত্যাখ্যান করে ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ধর্ম, জাতি, লিঙ্গ কিংবা শ্রেণির ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা উচিত নয়। যে সমাজ সংখ্যালঘুদের অধিকার হরণ করে, ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে এবং ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করে, সে সমাজ গণতান্ত্রিক হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আটক নেতাদের মুক্তি দাবি

বিবৃতিতে ভারতের শারজিল ইমাম ও উমর খালিদের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দেশটির সরকার তাঁদের বছরের পর বছর বিনাবিচারে আটক রেখেছে। তরুণ নেতৃত্বসহ আরও কয়েক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভারতের আন্দোলনরত তরুণ ও রাজনৈতিক বন্দিদের সহযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে আটক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান নাহিদ ইসলাম।

সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও পানির ন্যায্য বণ্টনের আহ্বান

বিবৃতির শেষাংশে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক মর্যাদা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এনসিপির এই নেতা।

তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা তাঁদের অঙ্গীকার। তাঁরা এমন একটি দক্ষিণ এশিয়া দেখতে চান, যেখানে রাষ্ট্রগুলো পরস্পরকে সমান মর্যাদা দেবে, সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে এবং সব দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad