বাঁধনের ওপর হামলার অভিযুক্তের বাড়িতে তালা, আত্মগোপনে পরিবার

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩১ বিকাল
  • ২৮৯৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত মনিরুল হাওলাদারের মাদারীপুরের গ্রামের বাড়িতে তালা ঝুলছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হামলার আশঙ্কায় মনিরুলের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালাসীকান্দি এলাকায় মনিরুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পাশাপাশি থাকা দুটি টিনশেড ঘরের দুটিতেই বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। বাড়িতে পরিবারের কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি।

মনিরুলের চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। বিদেশে ঘটে যাওয়া হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন বাড়িতে আসার আগেই তারা আত্মগোপনে চলে যান।

পরে মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার সেখানে এসে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, প্রায় দেড় বছর আগে দালালের মাধ্যমে ২৮ লাখ টাকা খরচ করে লিবিয়া হয়ে ইতালি যান মনিরুল। তিনি ধুরাইল ইউনিয়নের খালাসীকান্দি এলাকার মৃত শাজাহান হাওলাদারের কনিষ্ঠ ছেলে।

স্থানীয়দের দাবি, দেশে থাকাকালে মনিরুল নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ধুরাইল ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, তাঁর ছেলে এবং মাদারীপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আসিবুর রহমান খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও এলাকায় পরিচিত ছিলেন তিনি। বিদেশে গিয়েও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

মনিরুলের মা আলেয়া বেগম ও বড় ভাই গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। তাঁর তিন বোনের বিয়ে হয়েছে। বাড়ির একটি দোচালা ঘর জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ইতালি যাওয়ার জন্য নেওয়া ঋণের টাকাও এখনো পুরোপুরি পরিশোধ করতে পারেননি মনিরুল।

মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, মনিরুল এখনো বাড়িঘর করতে পারেননি এবং ঋণের বোঝা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিদেশে বসে এ দেশের মান-সম্মান সব শেষ করে দিয়েছে। ওর বিচার করুক, আমরা ওর সঙ্গে নাই।’

চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশে থাকাকালে মনিরুল ছাত্রলীগ করতেন এবং শাজাহান খান ও আসিবুর রহমান খানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিদেশে গিয়েও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন বলে দাবি করেন রফিকুল।

এলাকাবাসী বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের একজন অভিনেত্রীর ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তের শাস্তি দাবি করেছেন। কেউ কেউ ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে মনিরুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানান।

ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, মনিরুল দেশে থাকাকালে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তিনি জানেন। বিদেশে গিয়েও তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে শুনেছেন।

তিনি বলেন, ‘এভাবে ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি।’ মঙ্গলবার সকালে ইনকিলাব মঞ্চের আনাস নামে কয়েকজন লোকজন নিয়ে মনিরুলের বাড়িতে এসেছিলেন জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, তাঁদের বুঝিয়ে বলা হলে তারা বাড়িঘরে হামলা না করে চলে যান।

বাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, সদর থানা পুলিশও বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছে।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরই মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ যাতে বাড়িঘরে হামলা করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকেও অবহিত করা হয়েছে এবং তিনি সহযোগিতা করছেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad