আন্দোলনে দণ্ডপ্রাপ্ত এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৭ বিকাল
  • ৩৭৬১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিভাজনের প্রতিবাদে আন্দোলনের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্তের পর লঘুদণ্ড পাওয়া ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করেছে সরকার। রাষ্ট্রপতির কাছে করা আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের দণ্ডাদেশ বাতিল করা হয়েছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রোববার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রজ্ঞাপনগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।

শাস্তি মওকুফ পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন—উপকমিশনার মো. শাহাদাত জামিল, রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল বাশার, রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া, উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল আলম, কমিশনার জাকির হোসেন, যুগ্ম কমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির, অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু, অতিরিক্ত কমিশনার আ আ ম আমীমুল ইহসান, অতিরিক্ত কমিশনার সিফাত-ই-মরিয়ম, অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহাম্মদ তারেক রিকবদার, উপকর কমিশনার নো. জিল্লুর রহমান, উপকর কমিশনার ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল, অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা, যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, যুগ্ম কর কমিশনার মামুন মিয়া, অতিরিক্ত কর কমিশনার মিজ চাঁদ সুলতানা, অতিরিক্ত কর কমিশনার সুলতানা হাবীব, অতিরিক্ত কর কমিশনার মুরাদ আহমেদ, যুগ্ম কর কমিশনার মিজ মাসুমা খাতুন ও যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দীন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৪ জুন সকাল সাড়ে ১১টায় এসব কর্মকর্তা রাজস্ব ভবনের প্রবেশপথে অবস্থান নেন। এর আগে ২২ জুন জারি করা বদলির আদেশ আইনসংগত কারণ ছাড়া অবজ্ঞাপূর্বক ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সামনে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। একই সঙ্গে বদলি আদেশ অমান্যকারীকে সমর্থনের অভিযোগও আনা হয়।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে ওই আচরণকে চাকরির শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর, শিষ্টাচারবহির্ভূত এবং সরকারি আদেশ অবজ্ঞার শামিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এটি ‘সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর ৩০৩ বিধি এবং ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’-এর ৩(খ) বিধির আওতায় ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারও বেতন কয়েক ধাপ এবং কারও বেতন কয়েক বছরের জন্য অবনমিত করে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

পরে দণ্ডাদেশ মার্জনার জন্য কর্মকর্তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গত ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল করেন। রাষ্ট্রপতি তাদের আপিল মঞ্জুর করে দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেতন অবনমিতকরণের লঘুদণ্ড বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় মামলার দায় থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে গত ১৮ আগস্ট রাজস্ব সম্মেলনে এনবিআর কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন করেন। তখন প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন।

যেভাবে শুরু হয়েছিল আন্দোলন

২০২৫ সালে এনবিআরকে ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ ও ‘রাজস্ব নীতি’ নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগে ভাগ করতে অধ্যাদেশ জারি করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে কলমবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

ওই বছরের ২২ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে এবং সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান কাঠামোতেই এনবিআরের কার্যক্রম চলবে।

এর মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তৎকালীন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের পদত্যাগ দাবি করেন এবং তাকে এনবিআর কার্যালয়ে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন।

দাবি আদায়ে ২৮ জুন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু হলে আমদানি-রপ্তানিসহ এনবিআরের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। পরদিনও কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে অন্তর্বর্তী সরকার এনবিআরের সেবাকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

পরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’ শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে। এর পর থেকেই আন্দোলনে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অনেককে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়, আবার কারও বিরুদ্ধে লঘুদণ্ড আরোপ করা হয়েছিল।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad